নয়াদিল্লি, ৫ আগস্ট: ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একাধিক ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হলেও তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। তিনি বলেন, “ভয় আমার জনগণের প্রতি দায়িত্ব নির্ধারণ করতে পারে না।”
ভারতের নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সরকারবিরোধী আন্দোলনকে চরমপন্থি ও বিদেশি সমর্থিত গোষ্ঠী তাঁর নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য ব্যবহার করেছিল। তাঁর অভিযোগ, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে একদফা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ দেওয়া হয়।
তিনি দাবি করেন, তাঁর সরকার আন্দোলনের সময় সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা করেছিল, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল এবং শিক্ষার্থীদের আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে সংগঠিত গোষ্ঠীগুলো নির্বাচনের বাইরে গিয়ে ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে আন্দোলনকে ব্যবহার করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শেখ হাসিনা আন্দোলনের সময় নির্বিচারে বলপ্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংযম দেখিয়েছিল। তাঁর দাবি, সহিংসতায় পুলিশ সদস্য, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিক নিহত হন এবং সরকারি স্থাপনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সমন্বিত হামলা চালানো হয়।
তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তাঁর সরকার সহিংসতায় নিহতদের ঘটনা তদন্তে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল। তবে তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সেই তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি সত্যিই বিচার চাওয়া হতো, তাহলে তদন্ত কেন বন্ধ করা হলো?”
সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক, আইনজীবী, বিচারক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত এক বছরে দেশের প্রবৃদ্ধি কমেছে, শিল্প উৎপাদন সংকুচিত হয়েছে, খেলাপি ঋণ ও দারিদ্র্য বেড়েছে এবং বিনিয়োগ কমেছে। তাঁর আরও অভিযোগ, সরকারের ব্যয় মেটাতে প্রতি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৭০০–৯০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হচ্ছে এবং বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী দেশ ছেড়েছেন বা আত্মগোপনে রয়েছেন।
ক্ষমতায় ফেরার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর প্রত্যাবর্তন ক্ষমতার জন্য নয়; বরং দেশের “নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও শান্তি” পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে “সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার” লক্ষ্যেই তিনি দেশে ফিরতে চান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইতিহাসই শেষ পর্যন্ত তাঁর সরকারের পতনের ঘটনাগুলোর বিচার করবে এবং তিনি যাকে “অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখল” বলে উল্লেখ করেছেন, তার বিরুদ্ধে কথা বলা অব্যাহত রাখবেন।


