শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ | Boydton |
| Boydton
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

নেপালে ভূমিকম্প নয়, ভূমিধসের কম্পনেই কেঁপেছিল এলাকা: ইউএসজিএস

- ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

নেপালে বুধবার সকালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার আগে যে কম্পন অনুভূত হয়েছিল, সেটি ভূমিকম্পের কারণে নয়; বরং একটি শক্তিশালী ভূমিধসের কারণে সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।

নেপালের স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে কাঠমান্ডুর উত্তরে নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় কম্পনটি প্রথমে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করে ইউএসজিএস। পরে সংস্থাটি জানায়, একই সময়ে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে একটি বিশাল ভূমিধস নেমে লেন্দে খোলা নদীতে পড়ে। নদীটি চীন থেকে নেপালে প্রবাহিত ভোতে কোশি নদীর একটি শাখা।

ইউএসজিএসের পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই ভূমিধস এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এর ফলে ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য কম্পন সৃষ্টি হয়। ভূমিধসের পর নদীর প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে এবং এর ফলেই আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া, ধাদিং ও নুওয়াকোট। বর্তমানে এসব এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপাল পুলিশের সদস্যরা এখন পর্যন্ত ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। একই সঙ্গে বন্যার ঝুঁকিতে থাকা বিভিন্ন এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

দুর্যোগের কয়েক ঘণ্টা পর অন্তত ৪০৩ জন পর্যটকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।

এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন।

কাদামাটির নিচে আটকে পড়া জীবিত মানুষ ও মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধারকারীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সরকারের সব ধরনের সম্পদ ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে তিব্বত থেকে নেমে আসা ভোতে কোশি নদীর পানির উচ্চতা আকস্মিকভাবে বেড়ে যায়। এতে নদীসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

মন্তব্য

Scroll to Top