ঢাকা – স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টার বা সুইপার কলোনিতে বসবাসরত হরিজন সম্প্রদায়সহ অন্যান্য বাসিন্দাদের উচ্ছেদের জন্য জারি করা নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের করা একটি আবেদন ১৫ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ আগস্ট বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতিখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে মিটফোর্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গত ৭ জুলাই ও ৩০ জুলাই দুটি উচ্ছেদ নোটিশ জারি করে। ৩০ জুলাইয়ের নোটিশে বলা হয়, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তাৎক্ষণিক পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা না থাকলেও হরিজন সম্প্রদায়সহ সেখানে বসবাসরত সবাইকে আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে ভবন খালি করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাসা খালি না করলে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাসহ পরবর্তী সময়ে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে তার দায় বাসিন্দাদের বহন করতে হবে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়।
এ নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে আকস্মিক উচ্ছেদের প্রতিবাদে কলোনির কয়েকজন বাসিন্দা—মমালা, দালোয়ার বেগম ও দারা লাল বেগিসহ অন্যরা রিট আবেদন করেন। নাগরিক উদ্যোগ, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ALRD) এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (BLAST)-এর মতো মানবাধিকার সংগঠনও এ আইনি উদ্যোগে যুক্ত হয়।
রিটের শুনানি শেষে আদালত বিবাদীদের প্রতি ‘রুল নিসি’ জারি করেন। উচ্ছেদের নোটিশগুলো কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া গত ৪ আগস্ট বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে দেওয়া আবেদনের বিষয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালককে আদেশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আইন অনুযায়ী আবেদনটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রিটকারীদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট উৎপল বিশ্বাস শুনানিতে অংশ নেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় তাঁর আইনি ভূমিকার বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনায় এসেছে।

মন্তব্য