শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ | Columbus |
| Columbus
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অধ্যায়ে আজ সেই ভয়াল ২১ আগস্ট

- ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন

ঢাকা, ২১ আগস্ট: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও রক্তাক্ত অধ্যায়ের ২১তম বার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত এবং কয়েকশ মানুষ আহত হন। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন।

রক্তাক্ত সমাবেশ

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশের শেষ পর্যায়ে পরপর বিস্ফোরণে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান। শেখ হাসিনাকে ঘিরে থাকা নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান। হামলায় আহতদের অনেকে দীর্ঘদিন শারীরিক জটিলতায় ভুগেছেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া

হামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু থেকেই রাজনৈতিক ও আইনগত বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। তদন্তের গতিপথ, আলামত সংরক্ষণ এবং ‘জজ মিয়া’ নাটকসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন প্রশ্ন ও বিতর্ক চলেছে।

দীর্ঘ তদন্তের পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় রায় দেন। ওই রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরও ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।

উচ্চ আদালতে নাটকীয় মোড়

তবে বিচারিক আদালতের সেই রায়ই মামলার চূড়ান্ত পরিণতি হয়নি। ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করে সব আসামিকে খালাস দেন। আদালত বিচারপ্রক্রিয়ার আইনগত ত্রুটি এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট আপিল বিভাগে শুনানি শেষ হওয়ার পর ৪ সেপ্টেম্বর রায়ের দিন ধার্য করা হয়।

আপিল বিভাগেও বহাল খালাস

২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে হাইকোর্টের খালাসের রায় বহাল রাখেন। ফলে তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ দুই মামলায় নিম্ন আদালতে দণ্ডিত সব আসামির খালাস বহাল থাকে।

দুই দশকের বেশি সময় পর ২১ আগস্টের বিচারিক ইতিহাস এখন তাই একাধিক পর্যায়ের ভিন্ন ভিন্ন রায়ের মধ্য দিয়ে নতুন অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। তবে ২৪টি প্রাণহানি, শত শত মানুষের আহত হওয়া এবং অসংখ্য পরিবারের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই দিনটির গভীর তাৎপর্য অক্ষুণ্ন রেখেছে। আজকের ২১ আগস্ট সেই রক্তাক্ত অধ্যায়েরই স্মারক।

মন্তব্য

Scroll to Top