শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ | Columbus |
| Columbus
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

মাদারীপুরে নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, শিশুকে নদীতে নিক্ষেপ

- ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১২ অপরাহ্ন

মাদারীপুর: মাদারীপুরের শিবচরে ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং তার এক বছর বয়সী ছেলেকে আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত নারী শম্পা খাতুন। বুধবার শিবচরের মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকায় একটি মাদ্রাসার পাশের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার এক বছর বয়সী ছেলে আবির এখনও নিখোঁজ। শিশুটির সন্ধানে নদীতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ফারুক মোল্লা। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শম্পাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং শিশুটিকে আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেওয়ার কথাও বলেছেন।

পুলিশের দাবি, হত্যার আগে শম্পাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। পরে তাকে হত্যা করে মরদেহ নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হয়। ফারুক শিশুটিকে শ্বাসরোধ করার পর আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন। তবে শিশুটির মরদেহ এখনও উদ্ধার হয়নি।

ঝোপ থেকে উদ্ধার হয় শম্পার মরদেহ

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাখরেরকান্দি এলাকার খানবাড়ি দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদ্রাসার পাশের ঝোপে স্থানীয় লোকজন একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিচয় শনাক্ত করে জানা যায়, নিহত নারী শম্পা খাতুন। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আত্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে।

প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুর সদর উপজেলার বড় মেহের এলাকার শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের এক বছর বয়সী ছেলে আবির।

শম্পার বাবা ছামরুল ইসলাম জানান, বুধবার বিকেলে একজন গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তিনি মেয়ের মৃত্যুর খবর পান। একই সঙ্গে নাতি আবির নিখোঁজ থাকার কথাও জানতে পারেন। পরে তিনি শিবচরে গিয়ে ২০ আগস্ট শিবচর থানায় হত্যা মামলা করেন।

আদালতে পরিচয় হয়েছিল ফারুকের সঙ্গে

তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শম্পার স্বামী একটি মামলায় কারাগারে থাকাকালে মাদারীপুর আদালতে তার সঙ্গে ফারুক মোল্লার পরিচয় হয়।

পুলিশের অভিযোগ, পরে ফারুক শম্পাকে ডেকে বাখরেরকান্দি এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় এবং তার স্বর্ণালংকার নিয়ে মরদেহ ফেলে রাখা হয়।

শম্পার এক বছর বয়সী ছেলে আবিরও তখন তার সঙ্গে ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক স্বীকার করেছে যে সে আবিরকে আড়িয়াল খাঁ সেতু থেকে নদীতে ফেলে দেয়। শিশুটির সন্ধানে অভিযান চলছে।

স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার

হত্যা মামলা দায়েরের পর শিবচর থানা-পুলিশ ও র‍্যাব-৮ যৌথভাবে অভিযানে নামে। শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদেরের তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শিবচর ও রাজৈর এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে রাজৈর থেকে ফারুক মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শম্পার একটি স্বর্ণের নাকফুল, একটি রুপার চেইন, এক জোড়া জুতা এবং চুলায় পোড়ানো একটি ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ফারুক কয়েক মাস আগে গাড়ি চুরির অভিযোগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, প্রথম দিকে এটি ছিল একটি ক্লুলেস হত্যা মামলা।

তিনি বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার এবং আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”

পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তাও তদন্ত করছে।

আড়িয়াল খাঁ নদে আবিরের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য

Scroll to Top