শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ | Columbus |
| Columbus
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বাতিল

- ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন

ওয়াশিংটন: বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। বিচারক বলেছেন, এ ধরনের সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করা হয়েছে।

ম্যানহাটনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ জিনেট ভার্গাস শুক্রবার এ রায় দেন। আদালতের মতে, জানুয়ারিতে ঘোষিত স্টেট ডিপার্টমেন্টের নীতিটি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং আইনগতভাবে টেকসই নয়।

নীতিটির আওতায় দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, লাতিন আমেরিকা, বলকান ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করা হয়েছিল। বাংলাদেশও এ তালিকায় ছিল।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অধীনে চালু হওয়া এ নীতি ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন কড়াকড়ির অংশ। এতে মূলত দেখা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর কোনো ভিসা আবেদনকারী সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না।

বিচারক ভার্গাস বলেন, শুধু জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা দেওয়া সামগ্রিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া যাবে না।

রায়ে তিনি বলেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার এ নীতি কংগ্রেস প্রণীত বিদ্যমান অভিবাসন কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

‘পাবলিক চার্জ’ নীতিকে ঘিরে স্থগিতাদেশ

স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানুয়ারিতে ৭৫ দেশের জন্য এ স্থগিতাদেশ ঘোষণা করে। যুক্তি ছিল, এসব দেশের কিছু অভিবাসী আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে ‘পাবলিক চার্জ’ বিধানের আওতায় কনস্যুলার কর্মকর্তারা বিবেচনা করতে পারেন, কোনো অভিবাসী আবেদনকারী ভবিষ্যতে প্রধানত সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে কি না।

তবে আদালত মনে করেছেন, এ ধরনের মূল্যায়ন ব্যক্তি-ভিত্তিক হওয়ার কথা। জাতীয়তার ভিত্তিতে পুরো একটি দেশের আবেদনকারীদের ওপর একযোগে স্থগিতাদেশ আরোপ করে স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।

তবে আদালতের এ রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাতিল হয়ে যায়নি। নির্দিষ্ট দেশ বা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে আলাদা প্রেসিডেন্টের ঘোষণাপত্র, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ বা অন্যান্য অভিবাসন আইন এখনও কার্যকর থাকতে পারে।

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ওপর প্রভাব

রায়টি সরাসরি বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপরও প্রভাব ফেলবে, যাদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ৭৫ দেশের ওই নীতির আওতায় স্থগিত ছিল।

এখানে অভিবাসী ভিসা বলতে মূলত স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভিসাকে বোঝানো হয়েছে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট পারিবারিক স্পনসরশিপ এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক কিছু ভিসা অন্তর্ভুক্ত।

এটি পর্যটন, ব্যবসা বা শিক্ষার্থী ভিসার মতো অধিকাংশ নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল না।

রুবিওর ক্ষমতা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ

মামলাটিতে মূল প্রশ্ন ছিল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী কি জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা ইস্যুতে এ ধরনের সামগ্রিক স্থগিতাদেশ দিতে পারেন।

বিচারক ভার্গাসের রায়ে বলা হয়েছে, তিনি তা পারেন না।

আদালত বলেছে, কংগ্রেস যে অভিবাসন ব্যবস্থা তৈরি করেছে, তাতে প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে কনস্যুলার পর্যায়ে বিবেচনার ব্যবস্থা রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেই প্রক্রিয়ার বদলে একসঙ্গে বহু দেশের নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেন না।

অভিবাসী অধিকারবিষয়ক কয়েকটি সংগঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভিসা আবেদনকারী ও তাদের মার্কিন স্বজনেরা এ নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন।

রায়টি বহাল থাকলে এবং আপিল আদালত থেকে স্থগিতাদেশ না এলে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া আবার স্বাভাবিক আইনি কাঠামোর অধীনে চলতে পারবে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীকে নিজ নিজ যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য অন্যান্য অভিবাসন বিধি পূরণ করতে হবে।

মন্তব্য

Scroll to Top