প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘জোছনা উৎসব’ ভাবনা এবার নতুন মাত্রা পেল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। গত ৩১ জুলাই আটলান্টিক মহাসাগরের তীরবর্তী রকওয়ে বিচে অনুষ্ঠিত হয় প্রবাসী বাঙালিদের বহুল প্রতীক্ষিত ‘জোছনা উৎসব’। প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সংগঠকদের উদ্যোগে টানা তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত এ উৎসবে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি।
পূর্ণিমার আলোয় আলোকিত সমুদ্রসৈকতে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে গান, কবিতা, আবৃত্তি, নৃত্য ও প্রাণবন্ত আড্ডা। আটলান্টিকের ঢেউ আর জোছনার আবহে উৎসবটি প্রবাসে এক টুকরো বাংলাদেশের অনুভূতি এনে দেয় অংশগ্রহণকারীদের।
আয়োজকরা জানান, হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্ন ও ভাবনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোপাল স্যানাল ও সংগঠক স্বীকৃতি বড়ুয়ার নেতৃত্বে আয়োজক দলের প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে উৎসবের উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও বিজ্ঞানী ড. নূরন নবী। উদ্বোধনী পর্বে প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দেন সাংবাদিক মুহাম্মদ ফজলুল রহমান, নুরুল আমিন বাবু, জাকারিয়া চৌধুরী, স্বীকৃতি বড়ুয়া, জাহাঙ্গীর দস্তগীর, রামদাস ঘরামী, আসলাম আহমেদ খান ও পিনাকী তালুকদার।
সাংস্কৃতিক পর্বে উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও অভিনেতা সাজু খাদেম। সংগীত পরিবেশন করেন দিনাত জাহান মুন্নী, শাহ মাহবুব, রেশমী মির্জা, বিন্দু কণা, বাউল বেলাল করীম, করিম হাওলাদার, আলভান চৌধুরী, সাগ্নিক মজুমদার, জেরিন মাইশাসহ প্রবাসের আরও অনেক শিল্পী।
নৃত্য পরিবেশন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস (বিপা), নৃত্যাঞ্জলি ও মৃথান ড্যান্স একাডেমি। পাশাপাশি আবৃত্তি, বাউল গান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শারমীনা সিরাজ সোনিয়া, তাহরিনা পারভীন প্রীতি ও স্বাধীন মজুমদার। গণযোগাযোগ ও মিডিয়া সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন আসলাম আহমাদ খান।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে গোপাল স্যানাল আগামী বছর আরও বড় পরিসরে প্রবাসীদের নিয়ে একটি সাংস্কৃতিক কার্নিভাল আয়োজনের ঘোষণা দেন।


