সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ১৩ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা) আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে এক ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদের ছেলের শ্বশুর এবং তিনি দুবাইভিত্তিক একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
দ্য ভয়েস-এর হাতে আসা দুবাই পুলিশের সরকারি অ্যাপের সার্ভিস স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট এবং মামলার নথি অনুযায়ী, বুড় দুবাই পুলিশ স্টেশনে Breach of Trust through Embezzlement (বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ) অভিযোগে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। নথিতে
Service Status: Completed,
Reference Number: 226004250290,
Report No. 6635/2026 এবং
Case Number: 22668704 উল্লেখ রয়েছে।
নথিতে দেখা যায়, ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে Criminal Complaint Initiated (ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের) সম্পন্ন হয়। এরপর ২৭ মার্চ ২০২৬ অভিযোগ যাচাই (Complaint Verification) এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ করে ২৯ মার্চ ২০২৬ মামলাটি Criminal Report Registration পর্যায়ে নিবন্ধিত হয়।
দ্য ভয়েসের হাতে থাকা আরেকটি নথিতে দেখা যায়, ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে মামলাটির বিরুদ্ধে Travel Ban (ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা) কার্যকর রয়েছে। সেখানে Dubai Police GHQ – General Department of Criminal Investigation, Bur Dubai Police Station-এর অধীনে মামলার ধরন “Breach of trust through embezzlement” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই নথিতে জরিমানার পরিমাণ ০ দিরহাম দেখানো হয়েছে, যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখনও চলমান থাকার ইঙ্গিত দেয়।
অভিযোগকারী হিসেবে রয়েছেন ভারতীয় নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক মনিশ শাহওয়ান। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন মিশরীয় আইনজীবী রানিয়া মোহাম্মদ।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় নিজের দায়িত্বের অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের ১৩ লাখ মার্কিন ডলার আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পাবলিক প্রসিকিউশন তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে মামলাটি দুবাই ক্রিমিনাল কোর্টে বিচারের জন্য পাঠানো হতে পারে।
তবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি বা মামলা নথিভুক্ত হওয়া অভিযুক্তের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সমতুল্য নয়। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে, অভিযুক্ত বা তার আইনজীবীর পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শামা ওবায়েদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
দ্য ভয়েস মামলার পরবর্তী তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে। অভিযুক্তের বক্তব্য বা আদালতের নতুন কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।


