ঢাকা: রাজধানীর সবুজবাগে একটি কালভার্টের নিচ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর বিচ্ছিন্ন মাথা ও দুই হাত উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের বাকি অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ এবং নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান চলছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সবুজবাগের মাদারটেক এলাকার বাগানবাড়ি কালভার্টের নিচ থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওই নারীকে দুই থেকে তিন দিন আগে হত্যা করা হয়েছে। পরে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে, যাতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গোপন রাখা এবং নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়।
সর্বশেষ তথ্য পাওয়া পর্যন্ত নিহত নারীর পরিচয় জানা যায়নি। আঙুলের ছাপ এবং শরীরের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে।
তিনি বলেন, “খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া মাথা ও দুই হাত দেখে এটি একজন নারীর মরদেহ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মরদেহের বাকি অংশ এখনো পাওয়া যায়নি।”
দুই-তিন দিন আগে হত্যার ধারণা
উদ্ধার হওয়া দেহাংশের অবস্থা দেখে পুলিশ ধারণা করছে, ওই নারীকে তাৎক্ষণিকভাবে নয়, কয়েক দিন আগে হত্যা করা হয়েছে।
ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, “মরদেহের অংশগুলোতে পচন ধরতে শুরু করেছে। তাই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই থেকে তিন দিন আগে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।”
তবে পুলিশ বলছে, এটি এখনো প্রাথমিক ধারণা। ওই নারীর মৃত্যুর সঠিক সময় ও কারণ নিশ্চিত করতে ফরেনসিক পরীক্ষা প্রয়োজন হবে।
তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করা হয়েছে। দেহের বিভিন্ন অংশ আলাদা জায়গায় ফেলে রাখা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত কাউকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। হত্যার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কেও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
ট্যাটু, রাঙানো চুল ও কানের দুল হতে পারে পরিচয়ের সূত্র
নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করতে কয়েকটি দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি তুলনামূলক কম বয়সী। তার চুল সোনালি বা হালকা রঙে রাঙানো ছিল। একটি হাতে ট্যাটুও দেখা গেছে। উদ্ধার হওয়া মাথায় কানের দুল ছিল।
পুলিশ আশা করছে, এসব বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে কেউ নিহত নারীকে চিনতে পারলে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে।
তার পরিচয় নিশ্চিত করতে উদ্ধার হওয়া দুই হাত থেকে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হবে।
নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা গেলে তার সাম্প্রতিক চলাফেরা, নিখোঁজ হওয়ার সময়, পরিবারের সদস্য এবং মৃত্যুর আগে কার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল—এসব তথ্য ধরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
মরদেহের বাকি অংশ খুঁজছে পুলিশ
বাগানবাড়ি এবং আশপাশের এলাকায় মরদেহের বাকি অংশের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
পুলিশ বলছে, দেহের বাকি অংশ উদ্ধার করা গেলে মৃত্যুর কারণ এবং হত্যাকাণ্ডের ধরন সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক আলামত পাওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া দেহাংশগুলো একই এলাকায় ফেলা হয়েছিল, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে—সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা বাসাবাড়ি, সড়ক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সন্দেহজনক কোনো কিছু ধরা পড়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাসঙ্গিক সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি।
ঘটনার তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা, মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধার করা এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করাই বর্তমানে পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।


