ঢাকা: দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সাময়িক বরখাস্ত, একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং প্রচলিত বিধিবিধানের বাইরে তদন্তের নামে হয়রানির অভিযোগে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ও প্রবাসে থাকা ৩০ জন শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, সংস্কৃতিকর্মী ও পেশাজীবী।
২১ আগস্ট ঢাকায় দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ‘জুলাই আন্দোলনকে হেয় করা’, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং ক্ষমতাচ্যুত একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিবৃতিদাতারা এসব পদক্ষেপকে ভিন্নমত দমন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা মনে করি, ভিন্নমত দমন এবং চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চরিত্র দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।”
তারা আরও বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যাপকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
যৌথ বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেওয়া সাম্প্রতিক ব্যবস্থার কথা তুলে ধরা হয়।
এতে বলা হয়, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক আফরোজা শেলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মুহিতকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলামকেও একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিদাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তারা আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির অধ্যাপক রিসালা খানের বিরুদ্ধেও ‘জুলাই আন্দোলনকে হেয় করার চেষ্টা’র অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের শাস্তিমূলক ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডে আমরা গভীরভাবে ক্ষুব্ধ।”
যথাযথ প্রক্রিয়া ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ
বিবৃতিদাতারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে কিছু শিক্ষকগোষ্ঠী দেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকায় উঠে এসেছে এবং তাদের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধানবিরোধী, অগণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রে সক্রিয় রয়েছে।
তাদের অভিযোগ, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত রাজনৈতিক শক্তির নীরব সহায়তা ও সমর্থনে এসব শিক্ষকগোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও মতাদর্শগত ভিন্নতাকে ব্যবহার করে ভিন্নমত দমনের চেষ্টা করছে।
এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
বিবৃতিদাতারা বলেন, এসব শিক্ষকগোষ্ঠী কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পরপরই অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত আইন ও প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে।
তারা একে “স্বেচ্ছাচারিতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ” বলে অভিহিত করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিগুলো গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছে এবং এ অবস্থার অবসান হওয়া জরুরি।
শিক্ষকদের তালিকা নিয়ে প্রশ্ন
যৌথ বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিভিন্ন তালিকা তৈরির অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
এতে বলা হয়, ‘অ্যান্টি ফ্যাসিস্ট টিচার্স ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গত ২৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ২৩১ জন শিক্ষকের একটি তালিকা জমা দেয়।
বিবৃতিদাতাদের দাবি, এর পরদিনই বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় তোলা হয়।
পরে তালিকাটি ১২৫ জনে নামিয়ে আনা হয়। নামের সংখ্যা কমানোর ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের ভূমিকা ছিল—এমন অভিযোগও রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সর্বশেষ আরও ৩১ জনের একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়েছে বলেও তারা জানান।
বিবৃতিদাতারা অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এসব তালিকায় নাম থাকা শিক্ষকদের চিঠি দিয়ে ডাকা হচ্ছে। অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েনও এমন চিঠি পেয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তারা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতি ও অগণতান্ত্রিক আচরণের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।”
৫ আগস্টের পর থেকে শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগ
বিবৃতিতে বলা হয়, ৫ আগস্টের পর থেকে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা নানাভাবে হয়রানি ও অপমানের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে জোরপূর্বক পদত্যাগ এবং চাকরিচ্যুতির ঘটনাও রয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মব অপরাধ সংগঠিত করা এবং তাদের হয়ে আগে থেকেই পদত্যাগপত্র লিখে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকদের অপমান ও হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিদাতাদের দাবি, দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগে ৪০৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।
এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রতিশোধ এবং মতাদর্শিক আধিপত্যের সংস্কৃতি গড়ে উঠছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, “এ ধরনের পরিস্থিতি সমাজ, জাতি কিংবা রাষ্ট্র—কারও জন্যই কল্যাণকর হতে পারে না।”
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের ক্ষেত্র না করার আহ্বান
বিবৃতিদাতারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রতিশোধ বা ‘মতাদর্শিক শুদ্ধি অভিযানের’ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে না।
তারা ভিন্নমত দমন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করার বর্তমান সংস্কৃতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক প্রতিশোধ কিংবা মতাদর্শিক শুদ্ধি অভিযানের ক্ষেত্র হতে পারে না।”
তারা এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বাধীন চিন্তা, সাংস্কৃতিক চর্চা, একাডেমিক স্বাধীনতা ও জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হতে পারে।
একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং অন্যান্য অংশীজনের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের একাডেমিক স্বাধীনতা, চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং মৌলিক অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তারা বলেন, “আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং অন্য সব অংশীজনকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের একাডেমিক স্বাধীনতা, চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং মৌলিক অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ৩০ জন শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, সংস্কৃতিকর্মী ও পেশাজীবী। তারা হলেন—
১. আকরামুল হক, সংগঠক, ঢাকা
২. দস্তগীর জাহাঙ্গীর, সম্পাদক, দ্য ভয়েস, যুক্তরাষ্ট্র
৩. পারভেজ হাশেম, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও মানবাধিকারকর্মী, ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র
৪. জীবনানন্দ জয়ন্ত, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
৫. ভায়োলেট হালদার, সম্পাদক, সময়ের শব্দ, নরওয়ে
৬. আল আজম খান, মানবাধিকারকর্মী, ঢাকা
৭. উম্মে হাবিবা, ব্যারিস্টার ও সলিসিটর, কানাডা
৮. ইউসুফ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রকৌশলী, বোস্টন, যুক্তরাষ্ট্র
৯. সোহানা আহমেদ, সমন্বয়ক, সঙ্গত বাংলাদেশ
১০. জান্নাতুল ফেরদৌস নওজুলা, সাংস্কৃতিক সংগঠক, মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
১১. মিরাজ আহমেদ, সমাজকর্মী, ঢাকা
১২. মো. সাদিক হাসান, উপদেষ্টা, হাউকেল্যান্ড ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল, বার্গেন, নরওয়ে
১৩. সিরাজুম মুনিরা, ডক্টরাল গবেষক, নিউক্লিয়ার ফিজিক্স ডিভিশন, ওয়ারশ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, পোল্যান্ড
১৪. মনিরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী, টরন্টো, কানাডা
১৫. মজিবুল হক মনি, শিক্ষক, লন্ডন, যুক্তরাজ্য
১৬. এ কে আজাদ, সাংস্কৃতিক ও সমাজকর্মী, বাংলাদেশ
১৭. সোহেলা পারভিন, শিল্পী, ফ্রান্স
১৮. ইশতিয়াক জামিল, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, ইউনিভার্সিটি অব বার্গেন, নরওয়ে
১৯. তুহিন দাস, কবি, পেনসিলভানিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
২০. মো. ইফতেখার সাদিক, হিসাবরক্ষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক, মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
২১. মুনিরা রহমান, টিডিএসবি অফিস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও সংস্কৃতিকর্মী, অন্টারিও, কানাডা
২২. লিয়াকত হোসেন লিমন, লেখক, ব্লগার ও মানবাধিকারকর্মী, সুইডেন
২৩. তুষার গায়েন, কবি ও প্রাবন্ধিক, টরন্টো, কানাডা
২৪. আমিনুর রহমান, গবেষক, হাউকেল্যান্ড ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল, নরওয়ে
২৫. শ্যামলী নীলা, ক্রিয়েটিভ ডিজাইনার, সুইজারল্যান্ড
২৬. জয়দেব চন্দ্র শীল, ব্লগার ও মানবাধিকারকর্মী
২৭. সামিয়া মহসিন, কলামিস্ট, ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র
২৮. ফয়েজ খান তৌহিদ, মানবাধিকারকর্মী, যুক্তরাজ্য
২৯. রেজিনা সুলতানা, বিভাগীয় প্রধান ও চেয়ারপারসন, ইংরেজি বিভাগ, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
৩০. অপূর্ব দাস, কলামিস্ট ও লেখক, ঢাকা, বাংলাদেশ

মন্তব্য