শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ | Columbus |
| Columbus
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

দুই জঙ্গিসহ ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক

- ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন

ঢাকা: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংস আন্দোলনের সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে ৬৯০ জন দুই বছর পরও অধরা রয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন জঙ্গিও রয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকায় কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহের হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে ৬৯০ জনকে এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ২০২৪ সালে সরকারের পতন ঘটানোর উদ্দেশ্যে পরিচালিত সহিংস আন্দোলনের সময় বিভিন্ন কারাগারে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে থানাগুলো জ্বালিয়ে দেওয়া হয় এবং বহু পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয়। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

কারাগারে হামলার ফলে সে সময় ২ হাজার ২০০ জনের বেশি বন্দি পালিয়ে গিয়েছিল।

কারা মহাপরিদর্শক জানান, ওই সময় পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের অধিকাংশকেই পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এখনও দুজন জঙ্গি পলাতক রয়েছে।

দেশের কারাব্যবস্থায় সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় নিরাপত্তা বিপর্যয়ের দুই বছর পরও বিপুলসংখ্যক বন্দির পলাতক থাকার বিষয়টি কারা মহাপরিদর্শকের বক্তব্যে আবার সামনে এসেছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংসতার সময় দেশের কয়েকটি কারাগারে হামলা হয়। কোথাও কোথাও নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে পড়লে বিপুলসংখ্যক বন্দি পালিয়ে যায়।

কারা কর্তৃপক্ষের আগের হিসাব অনুযায়ী, সে সময় ২ হাজার ২০০ জনের বেশি বন্দি পালিয়েছিল। পরে তাদের অনেকেই আত্মসমর্পণ করে অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়। তবে এখনও কয়েকশ বন্দির সন্ধান মেলেনি।

দুই বছরেও সন্ধান মেলেনি শত শত বন্দির

কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে পলাতকের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমলেও সর্বশেষ হিসাবে এখনও ৬৯০ জন ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কারা মহাপরিদর্শক জানিয়েছিলেন, তখনও ৯০১ বন্দি পলাতক ছিল। সে সময় কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে ৯৮ জন ছিল জঙ্গি। তাদের মধ্যে ৭০ জন সাজাপ্রাপ্ত ছিল। ওই সময় ২৭ জঙ্গির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

একই বছরের ডিসেম্বর নাগাদ ২ হাজার ২০০ জনের বেশি পালানো বন্দির মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। তখন প্রায় ৭০০ বন্দি পলাতক ছিল। তাদের মধ্যে জঙ্গি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং গুরুতর অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিও ছিল বলে জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ হিসাবে পলাতক বন্দির সংখ্যা ৬৯০ জনে নেমেছে। অর্থাৎ, দীর্ঘ সময়েও অবশিষ্ট পলাতকদের গ্রেপ্তারে অগ্রগতি তুলনামূলকভাবে ধীর।

পালিয়ে যাওয়া সবাই বিচারাধীন বন্দি ছিল না। কারা কর্তৃপক্ষের আগের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে বিভিন্ন মামলায় দণ্ডিত এবং দীর্ঘমেয়াদি সাজাপ্রাপ্ত বন্দিও ছিল।

কারাগারে হামলার মধ্যে গণহারে পালায় বন্দিরা

২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের রাজনৈতিক সহিংসতার সময় বাংলাদেশের কারাব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে।

দেশের বিভিন্ন জেলার কারাগারে হামলা ও বিশৃঙ্খলার সুযোগে বিপুলসংখ্যক বন্দি পালিয়ে যায়। কারা কর্তৃপক্ষের আগের তথ্য অনুযায়ী, আটটি কারাগারে হামলার ঘটনা ঘটেছিল এবং এর মধ্যে পাঁচটি কারাগার থেকে বন্দিরা পালাতে সক্ষম হয়।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কারাগারগুলোর একটি ছিল নরসিংদী জেলা কারাগার।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কয়েকশ মানুষ নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলা চালায় এবং সেখানে অগ্নিসংযোগ করে। কারা কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, শুধু ওই কারাগার থেকেই ৮২৬ বন্দি পালিয়ে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে ৬৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় অথবা তারা আত্মসমর্পণ করে।

কাশিমপুর, শেরপুর ও সাতক্ষীরাসহ আরও কয়েকটি কারাগারেও ওই সময় হামলা, বিশৃঙ্খলা ও বন্দি পালানোর ঘটনা ঘটে।

কারাগারে হামলার সময় আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ লুটের ঘটনাও ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তোলে।

বাংলাদেশের কারাবিধি অনুযায়ী, কোনো বন্দি পালিয়ে গেলে কারা কর্তৃপক্ষকে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতে হয়। একই সঙ্গে বন্দি পালানো এবং পরে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারের তথ্যও আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করার বিধান রয়েছে।

দুই বছর পর কারা মহাপরিদর্শকের দেওয়া সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ওই সময় পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে এখনও ৬৯০ জন পলাতক রয়েছে, যাদের মধ্যে দুজন জঙ্গি।

মন্তব্য

Scroll to Top