শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ | Columbus |
| Columbus
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

রাষ্ট্রপতি পদে ভোট, কতটা ক্ষমতা আর কতটা প্রটোকল?

- ২০ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ন

ঢাকা, ২০ আগস্ট — রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে শুধু কে বঙ্গভবনে যাচ্ছেন, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ রাখলে বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অদেখাই থেকে যায়।

রাষ্ট্রপতি আসলে কতটা ক্ষমতাবান? কীভাবে তিনি নির্বাচিত হন? তাঁর বেতন ও সুযোগ-সুবিধা কত? আর কেন এমন একটি পদ, যার নির্বাহী ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এত গুরুত্বপূর্ণ?

জনগণের ভোট নয়, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন।

প্রক্রিয়াটি সরল। একজন সংসদ সদস্য কোনো প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেন এবং আরেকজন তা সমর্থন করেন। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে সর্বাধিক ভোট পাওয়া ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সমান ভোট হলে সংবিধান অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এবারের নির্বাচন অবশ্য সাম্প্রতিক কয়েকটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তুলনায় আলাদা মাত্রা পেয়েছে। কারণ একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হচ্ছে। তবে সংসদে বিএনপির শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা কার্যত নেই।

রাষ্ট্রপতি হতে সংসদ সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য সংসদ সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অলি আহমদ তারই উদাহরণ। তিনি সংসদ সদস্য নন। ফলে তিনি প্রার্থী হতে পারলেও সংসদের সভাকক্ষে আজকের ভোটে ভোট দিতে পারবেন না।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হয় এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়। তবে কোনো ব্যক্তি আগে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকলে তিনি আর এ পদে নির্বাচিত হতে পারবেন না।

কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যায়। ফলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাঁর সংসদীয় আসনেও পরবর্তী সময়ে উপনির্বাচন হতে হবে।

সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ, কিন্তু সরকারপ্রধান নন

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারী। সংবিধান তাঁকে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে।

কিন্তু এখানেই বাংলাদেশের সংসদীয় সরকারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান, কিন্তু সরকারপ্রধান নন।

রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতার বাস্তব কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা। ফলে রাষ্ট্রপতির পদটির মর্যাদা ও প্রটোকল অত্যন্ত উচ্চ হলেও তাঁর নির্বাহী ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত।

সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতি তাঁর অন্যান্য দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন।

তবে এই দুই নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক অবস্থান আলাদা।

দুটি জায়গায় রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ভূমিকা

প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি সাধারণত সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকেই সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ করেন। কিন্তু কোনো নির্বাচনে যদি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকে, তখন কে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা অর্জন করতে পারবেন, তা নির্ধারণে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের বাইরে একটি বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখবেন। রাষ্ট্রপতি কোনো বিষয় মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য উপস্থাপনের অনুরোধ করলে প্রধানমন্ত্রী তা মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করবেন।

তবে সংবিধানে একটি বিশেষ সুরক্ষাও রয়েছে—রাষ্ট্রপতিকে কোনো পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল কি না বা কী পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো আদালত তদন্ত করতে পারে না।

ক্ষমা করার ক্ষমতাও আছে রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা হলো দণ্ড মার্জনা বা কমানোর ক্ষমতা।সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন।

এটি রাষ্ট্রপতি পদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা। তবে সংসদীয় সরকারব্যবস্থার কাঠামোর মধ্যে রাষ্ট্রপতির অধিকাংশ দায়িত্বের মতো এই ক্ষমতার প্রয়োগও সরকারের পরামর্শের সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত।

রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা করা যায় না কেন?

রাষ্ট্রপতির পদটির আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সাংবিধানিক দায়মুক্তি।
দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির সরকারি কার্যক্রমের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে জবাবদিহির ব্যবস্থা নেই। তাঁর কার্যকাল চলাকালে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যায় না এবং তাঁকে গ্রেপ্তার বা কারাবন্দি করার জন্য আদালত থেকে পরোয়ানা জারি করা যায় না।

তবে এই দায়মুক্তি অসীম বা চূড়ান্ত নয়।

সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যায়। শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণেও তাঁকে অপসারণের সাংবিধানিক বিধান রয়েছে।

অভিশংসনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয় এবং রাষ্ট্রপতিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে সংসদের মোট সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রস্তাব পাস হলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়।

শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের উদ্যোগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে ঘিরে। ২০০২ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি পদত্যাগ করেন।

পাঁচ বছরের মেয়াদ, সর্বোচ্চ দুইবার

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে উত্তরসূরি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমান রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে বহাল থাকেন।
একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে মো. আবদুল হামিদ পরপর দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক দায়মুক্তির সেই সুরক্ষা আর কার্যকর থাকে না।

বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, কিন্তু সুবিধার পরিধি আরও বড়

রাষ্ট্রপতির বেতন মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। রাষ্ট্রপতির বেতন আয়করমুক্ত। সর্বশেষ ২০১৬ সালে এ বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এর আগে মাসিক বেতন ছিল ৬১ হাজার ২০০ টাকা।

তবে রাষ্ট্রপতি পদের আর্থিক সুবিধা শুধু বেতনে সীমাবদ্ধ নয়।

রাষ্ট্রপতির জন্য নির্ধারিত সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন। এর রক্ষণাবেক্ষণ, সাজসজ্জা ও প্রয়োজনীয় ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য গাড়ি ও অন্যান্য পরিবহনসুবিধাও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় দেওয়া হয়।
বিদেশ সফরে সরকারি নির্ধারিত হারে ভাতা পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন ও এন্টারটেইনমেন্টের জন্য রয়েছে বার্ষিক ভাতা। এ খাতের ব্যয়ের নিরীক্ষা না করার বিধানও রয়েছে।
অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতির পদকে শুধু মাসিক বেতনের অঙ্ক দিয়ে বিচার করলে প্রকৃত আর্থিক কাঠামোটি বোঝা যাবে না।
বছরে দুই কোটি টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল

রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে স্বেচ্ছাধীন তহবিল। এর পরিমাণ বছরে দুই কোটি টাকা।
রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ অর্থ ব্যয় করা যায়।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে। দেশে যেকোনো হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বিদেশে চিকিৎসার ব্যয়ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করার বিধান রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির বিমানভ্রমণের জন্যও বিমা সুবিধা রয়েছে, যার বর্তমান বার্ষিক পরিমাণ ২৭ লাখ টাকা।
সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতির আর্থিক প্যাকেজের বড় অংশটি বেতনের বাইরে—বাসভবন, পরিবহন, চিকিৎসা, সরকারি সফর, আপ্যায়ন, বিমানভ্রমণ এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় নিশ্চিত করা হয়।

তাহলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা আসলে কতটুকু?

এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর।
সংসদে কোনো দল যদি সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক বিবেচনার ক্ষেত্র তুলনামূলকভাবে সংকুচিত থাকে। প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে তখন সিদ্ধান্ত প্রায় নির্ধারিতই থাকে।

কিন্তু যদি কোনো নির্বাচনের পর সংসদে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকে, তখন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কে সরকার গঠন করতে পারবেন, কে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন অর্জন করতে পারবেন—এসব প্রশ্নে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক অবস্থান তখন তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা শুধু সংবিধানের ধারায় নয়, সংসদের রাজনৈতিক বিন্যাসের ওপরও অনেকখানি নির্ভরশীল।
বঙ্গভবনের চাকচিক্য বনাম নির্বাহী ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা

রাষ্ট্রপতির পদকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক কৌতূহলের মূল জায়গাটি এখানেই।

একদিকে তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারী। বঙ্গভবন তাঁর সরকারি বাসভবন। রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে তাঁর অবস্থান সবার ওপরে। রয়েছে বেতন, সরকারি পরিবহন, চিকিৎসা, ভাতা, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সুবিধা।

অন্যদিকে দেশের দৈনন্দিন নির্বাহী সিদ্ধান্তের মূল নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে নেই। সেই ক্ষমতার কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।
ফলে রাষ্ট্রপতি পদটি বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় অনেকটা রাষ্ট্রীয় মর্যাদার শীর্ষবিন্দু এবং নির্বাহী ক্ষমতার সীমারেখার সংযোগস্থল।

আর যদি রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়?

সংবিধান এ ক্ষেত্রেও একটি স্পষ্ট ব্যবস্থা রেখেছে।

রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে, অথবা রাষ্ট্রপতি কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

এ ব্যবস্থা রাষ্ট্রপ্রধানের পদে কোনো সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হতে দেয় না।

আজকের ভোটের আসল তাৎপর্য কোথায়?

আজকের নির্বাচন হয়তো সংখ্যার হিসাবে খুব বেশি নাটকীয় নয়। বিএনপির ২৪৭ সংসদ সদস্যের বিপরীতে ১১-দলীয় ঐক্যের ৯০ সদস্য—ফলাফল তাই ভোট শুরুর আগেই অনেকটা অনুমেয়।

কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের গুরুত্ব শুধু আজ কে কত ভোট পেলেন, তাতে সীমাবদ্ধ নয়।
এটি আসলে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়না।

রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না, কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ তাঁকে রাষ্ট্রপ্রধানের আসনে বসায়। তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ব্যক্তি, কিন্তু সরকারপ্রধান নন। তাঁর হাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীন সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে, আবার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুসরণ করতে হয়।

আর সেই কারণেই বঙ্গভবনের প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত শুধু কে সেখানে থাকবেন, সেই প্রশ্ন নয়।
এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার আরও মৌলিক একটি প্রশ্নকে সামনে আনে—

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদার সাংবিধানিক পদে বসা একজন ব্যক্তির হাতে কতটা ক্ষমতা থাকবে, আর সেই ক্ষমতার সীমা কোথায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী কর্তৃত্বের সঙ্গে মিলবে—বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ভারসাম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সেখানেই।

মন্তব্য

Scroll to Top