রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬ | Five Cays Settlement |
| Five Cays Settlement
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সমাধানে অন্তত দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী

- ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন

ঢাকা: বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতির অর্থবহ ও টেকসই সমাধানে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ—উভয় পক্ষই বর্তমানে জ্বালানি সংকটের প্রভাব অনুভব করছেন।

তিনি বলেন, “সবাই বিদ্যুৎ ও গ্যাসের কথা বলেছেন। আমরা এক ধরনের সংকটের মধ্যে আছি।”

এই সংকটের দ্রুত সমাধান নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা না রাখার আহ্বান জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে এমন কিছু সমস্যা রয়েছে, যেগুলোর সমাধান স্বল্প সময়ে সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের কোনো সমস্যাই ছয় মাসের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। এমনকি এক বছরের মধ্যেও সমাধান হবে না। অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। আমরা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের এই সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করছি।”

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার সংকট মোকাবিলায় যত দ্রুত সম্ভব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে এবং এ ক্ষেত্রে সময় নষ্ট করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, “আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, আমরা যত দ্রুত সম্ভব সবকিছু করার চেষ্টা করছি। আমরা এক মুহূর্তও নষ্ট করছি না।”

এলএনজি অবকাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্তের পথে

গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে সরকার ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং স্থলভিত্তিক সংরক্ষণ অবকাঠামোসহ বেশ কিছু বিষয়ে কাজ করছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

আমীর খসরু বলেন, “গ্যাসের ক্ষেত্রে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল, স্থলভিত্তিক স্টোরেজ সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এসব বিষয়ে আপনারা জানতে পারবেন।”

তার বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার গ্যাস সরবরাহের অবকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও এগিয়ে নিচ্ছে।

তিনি ইঙ্গিত দেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে বর্তমানে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর স্থায়ী সমাধান একক কোনো পদক্ষেপে সম্ভব নয়। এ জন্য অবকাঠামো, জ্বালানি সরবরাহ এবং উৎপাদন ব্যবস্থাকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

সমন্বিত জ্বালানি মিশ্রণের পরিকল্পনা

অর্থমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি সমন্বিত জ্বালানি মিশ্রণ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই পরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ এবং কয়লাকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

আমীর খসরু বলেন, “আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি থাকবে, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ থাকবে। কয়লা আমাদের একটি সম্পদ, কয়লাভিত্তিক বিকল্পটিও আমরা বিবেচনা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি সমন্বিত জ্বালানি মিশ্রণের দিকে এগোচ্ছি এবং সেই মিশ্রণ মোটামুটিভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।”

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার একদিকে তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেও বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের পূর্ণাঙ্গ সমাধান অল্প সময়ে হবে না।

তার ভাষায়, পরিস্থিতির টেকসই উন্নতির জন্য অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন হবে।

মন্তব্য

Scroll to Top