সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Atlanta |
| Atlanta
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

সম্পাদকীয় II শেখ হাসিনা: প্রতিকূলতা জয় করা এক চিরন্তন প্রাসঙ্গিকতার নাম

- ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের রাজনীতি ও শেখ হাসিনা—দুটি যেন একই সূত্রের দুই প্রান্ত। জন্মসূত্রে যিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জ্যেষ্ঠ কন্যা, তাঁর জীবনকাহিনি কেবল কোনো রাজনৈতিক নেত্রীর জীবনপ্রবাহ নয়; বরং তা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাঁর জন্ম, আটটি দশক অতিক্রম করে আজ তিনি ৭৯তম জন্মদিন স্পর্শ করছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর তৎকালীন সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসকেরা চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর রক্ত ও আদর্শকে বাংলাদেশ থেকে চিরতরে মুছে ফেলতে। কিন্তু স্বজন হারানোর অপরিসীম বেদনা বুকে চেপে ১৯৮১ সালের ১৭ মে প্রথমবার দেশে ফিরে তিনি বাঙালির গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের নেতৃত্ব হাতে নেন। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে তিনি দেশকে এক নতুন দিশা দেখান। এরপর ২০০১ পরবর্তী দমন-পীড়ন এবং ১/১১-এর রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়ে ২০০৭ সালে দ্বিতীয়বার কারামুক্তির পর বীরের বেশে দেশে ফেরেন তিনি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বৈরী পরিস্থিতির মুখে পড়ে তাঁকে পুনরায় দেশ ত্যাগ করতে হলেও কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা ও দণ্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হলেও, তাঁর রাজনৈতিক উপস্থিতিকে কোনোভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি।

বঙ্গবন্ধু-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরে আর্থ-সামাজিক স্থবিরতার মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। সামরিক শাসন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশকে থমকে দিয়েছিল। সেই তো স্থবির দেশকে গতিশীল ও উন্নয়নমুখী করেছিলেন শেখ হাসিনা। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি, পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেলের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে তিনি বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে এক নতুন মর্যাদায় উন্নীত করেছিলেন। যে অভূতপূর্ব দৃশ্যমান উন্নয়ন তিনি করে গেছেন, তা আগামী বহু বছর ধরে যেকোনো সরকারের জন্যই এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ হাসিনাকে অপ্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা কম হয়নি। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা থেকে শুরু করে অন্তত ১৯ বার তাঁকে হত্যার সরাসরি চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে উঠেছেন এবং নতুন শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। আজ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়, বি এন পি পরিচালিত সরকারের সময়েও তাঁকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে তোলপাড় ও প্রভাব লক্ষ করা যায়, তা প্রমাণ করে তিনি কতটা প্রাসঙ্গিক। সরকারের নানা পদক্ষেপ কিংবা উদ্বেগের পেছনে তাঁর এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও জনমানসে প্রভাবই মূল কারণ।

শেখ হাসিনাকে রাজনীতি ও ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার হাজারও প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি বারবার ফিরে এসেছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা বা ক্ষমতার পরিবর্তন যা-ই ঘটুক না কেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন, রাজনীতি এবং ভবিষ্যতের আলোচনায় শেখ হাসিনা কেবল অপ্রাসঙ্গিক নন, বরং এক অপ্রতিরোধ্য এবং সর্বদাই প্রাসঙ্গিক নাম। ৮০তম জন্মদিনে এই জননেত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।

মন্তব্য

Scroll to Top