রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ | Moscow |
| Moscow
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে হামলায় আহত পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু

- ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন

গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে হামলায় গুরুতর আহত ২১ বছর বয়সী পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবারের অভিযোগ, সোমবার গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানা টেরিটরি গার্মেন্টসের (নোমান গ্রুপ) বাইরে হামলার ঘটনা মুঠোফোনে ধারণের চেষ্টা করলে তৌফিককে মারধর করা হয়। পরে সহকর্মীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

তৌফিক গাজীপুরের স্থানীয় লায়লা গার্মেন্টসে কাজ করতেন। তাঁর বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামে। তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে গাজীপুর এলাকায় বসবাস করছিলেন।

WhatsApp Image 2026-11-04 at 1.36.59 AM

গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, বহিরাগত কয়েকজন কারখানা কর্তৃপক্ষকে কারখানা বন্ধের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। কর্তৃপক্ষ তাতে রাজি না হওয়ায় বহিরাগতদের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এতে এক শ্রমিক গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় সেখানে পুলিশের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না বলে জানান তিনি।

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ

তৌফিকের মৃত্যুর ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দেশের প্রধান পোশাকশিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ এবং চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবিতে ৩১ অক্টোবর থেকে ঢাকা, গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা।

বিক্ষোভের কারণে বিভিন্ন সময়ে সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, কারখানায় ভাঙচুর এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বহু কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ২ নভেম্বর বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৬৯০টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকার কথা জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠনগুলোর সূত্র। পরদিনও সাভার ও আশুলিয়ায় অন্তত ২০০টি কারখানা বন্ধ থাকার কথা জানায় শিল্প পুলিশ।

শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১ নভেম্বর সরকার ছয় সদস্যের একটি ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে। তবে বোর্ড গঠনের পরও বিক্ষোভ থামেনি। শ্রমিকদের মজুরি ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত দাবির পাশাপাশি কারখানা বন্ধ, চাকরিচ্যুতি এবং শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস এবং প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। চলমান অস্থিরতায় উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য

Scroll to Top