বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা এবং ঢাকায় একটি শিল্পী সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দল।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠনটির পক্ষ থেকে বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. জীনাত হুদা।
বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে বাধা দিয়ে তাকে রাতের অন্ধকারে দাফন করার পরিস্থিতি সৃষ্টি করা অত্যন্ত মর্মান্তিক, অপমানজনক ও নিষ্ঠুরতার বহিঃপ্রকাশ। সংগঠনটির অভিযোগ, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রকাশ্যে মাইকযোগে ঘোষণা দিয়ে মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দিয়েছে।
নীল দল বলেছে, এ ঘটনায় স্বাধীনতাপ্রিয় ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অপমানবোধ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দাফনকাজে স্থানীয় প্রশাসনের কথিত নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মানিক পশারীর পরিবারের অসহায় নারীদের দিয়ে কবর খোঁড়ানোর ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মুছে ফেলারও চেষ্টা চলছে।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি শিল্পী সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে বাধা দেওয়া এবং এটিকে ‘নিষিদ্ধ স্লোগান’ হিসেবে উল্লেখ করার ঘটনাকেও নীল দল একই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, পুনর্লিখন ও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বিবৃতিতে দেশীয় ও লোকজ সংস্কৃতির ওপর আঘাত, জাতীয় সংগীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালিমা লেপন, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙচুর এবং স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন নিদর্শন ধ্বংসের ঘটনাগুলোকেও একই প্রবণতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
নীল দল বলেছে, ইতিহাসের গতিপথ কোনো ষড়যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল নয়। তাদের মতে, ‘জয় বাংলা’ শুধু একটি স্লোগান নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিধ্বনি, বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক এবং স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয়ের প্রকাশ।
মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দল।

মন্তব্য