শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ | Boydton |
| Boydton
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

অধ্যাপক জিনাত হুদার সাময়িক বহিষ্কারে ঢাবি শিক্ষকদের প্রতিবাদ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ

- ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৪ পূর্বাহ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার সাময়িক বহিষ্কারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল প্রগতিশীল শিক্ষক। তাঁদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে একের পর এক শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার ও ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একদল শিক্ষক উপাচার্যের কাছে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দেন। এতে ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের বিধান উপেক্ষা করে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তথ্যানুসন্ধান ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন এবং এসব কমিটির কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানানো হয়।

শিক্ষকদের দাবি, এখন পর্যন্ত ১১ জন বিশিষ্ট শিক্ষককে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কার কিংবা ট্রাইব্যুনালের আওতায় আনা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রতিষ্ঠিত না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. জিনাত হুদাকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের লক্ষ্যে সংঘটিত জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।

অধ্যাপক জিনাত হুদা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষকদের এই প্ল্যাটফর্মটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নীল দল হিসেবে পরিচিত।

শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, অধ্যাপক জিনাত হুদাকে এর আগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকেও অবৈধভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বুধবারের সভায় সিন্ডিকেট অধ্যাপক জিনাত হুদাকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম হিসেবে সিন্ডিকেটই এ ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানান, অধ্যাপক জিনাত হুদার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই তাঁকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

বৃহস্পতিবার স্মারকলিপি দেওয়ার পর শিক্ষকরা উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলফেছানীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। বৈঠকে তাঁরা অভিযোগ করেন, তদন্ত ও তথ্যানুসন্ধান কমিটির নামে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এক ধরনের ‘প্রহসনের তদন্ত’ চালানো হচ্ছে। মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে একের পর এক শিক্ষককে বহিষ্কার এবং ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রবণতা নিয়েও তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

শিক্ষকরা এসব বিষয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ায় যেন কোনো শিক্ষক অন্যায়ের শিকার না হন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জবাবে অধ্যাপক আলফেছানী শিক্ষকদের আশ্বস্ত করেন, তাঁদের সঙ্গে কোনো ধরনের অন্যায় যেন না হয়, সে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।

মন্তব্য

Scroll to Top