বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীতে মশাল মিছিল করেছেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ছাত্র-যুব সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। রোববার রাজধানীর পল্টন থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি পরে জাতীয় প্রেসক্লাবের দিকে যায়।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘আমার মাটি আমার মা, পাকিস্তান হবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন মানিক পশারী। তাঁর মরদেহ দাফন নিয়ে পিরোজপুরে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার পর এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে স্বজনেরা মানিক পশারীর মরদেহ নিয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদে আসেন। পরে মরদেহটি পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়। এর আগে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে মানিক পশারীকে পিরোজপুরে দাফন না করার দাবি তোলেন স্থানীয় কয়েকজন। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের অবস্থান করতেও দেখা যায়। তাঁদের বিরুদ্ধে মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর শনিবার সকাল ১০টার দিকে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মন্তব্য