খুলনা নগরীর মিস্ত্রিপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মো. তুষার (২৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে মিস্ত্রিপাড়া বাজারের পূর্ব পাশে আনসার উদ্দিন লেন থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় মরদেহের পাশে তাঁর ব্যবহৃত কালো রঙের নম্বরপ্লেটবিহীন একটি ইয়ামাহা আর-১৫ মোটরসাইকেল পড়ে ছিল।
নিহত তুষার নগরীর লবণচরা এলাকার জিন্নাহপাড়ার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। পুলিশের দাবি, তিনি কারাবন্দী সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি পলাশের সহযোগী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় অস্ত্র ও চাঁদাবাজির দুটি মামলা রয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অপরাধী চক্রের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
পিঠে গুলি করে হত্যা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার এলাকার লোহার গেটসংলগ্ন খাদেমুল উলুম মাদ্রাসার কাছে কয়েকজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ছুরিকাঘাতের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এরপর তুষার মোটরসাইকেল নিয়ে ওই এলাকা থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আনসার উদ্দিন লেনের পূর্ব প্রান্তে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাঁর পিঠে গুলি করে।
গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মোটরসাইকেলসহ সড়কে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
খবর পেয়ে খুলনা সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় পাশের এলাকা থেকে দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
খুলনা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলম মরদেহ, মোটরসাইকেল ও গুলির খোসা উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
অপরাধী চক্রের বিরোধের জেরে হত্যার সন্দেহ
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন রিপন জানান, নিহত তুষার কারাবন্দী পলাশের সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশের ধারণা, সুজন ও জিতু নামে দুই ব্যক্তির নেতৃত্বাধীন প্রতিপক্ষ অপরাধী চক্রের সঙ্গে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
ওসি জানান, ঘটনার আগে তুষার প্রতিপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে বিরোধের একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
তুষারের বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় অস্ত্র ও চাঁদাবাজির দুটি মামলা রয়েছে। গত ৭ জুন অস্ত্র মামলায় আদালতে হাজির হওয়ার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তারের খবরও পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য