পটুয়াখালীর বাউফলে নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। নিহত ব্যক্তির দুই হাত বাঁধা ছিল। গলার সঙ্গে বাঁধা ছিল ইট। পুলিশের ধারণা, চার-পাঁচ দিন আগে তাঁকে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে বাউফল পৌরসভার বাংলাবাজার জামে মসজিদসংলগ্ন আলগী নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বেলা দুইটার দিকে বাংলাবাজার জামে মসজিদসংলগ্ন নদীর ঘাটে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁরা বাউফল থানায় খবর দেন।
খবর পেয়ে কালাইয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
হাত বাঁধা, গলায় ইট
কালাইয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সারোয়ার হোসেন জানান, উদ্ধার করা মরদেহটি একজন পুরুষের। পচন ধরায় তাঁর মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে। ফলে চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির দুই হাত বাঁধা ছিল। গলার সঙ্গে ইটও বাঁধা পাওয়া গেছে।
স্থানীয়ভাবে নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩২ বছর বলে ধারণা করা হলেও পুলিশ তাঁর বয়স নিশ্চিত করতে পারেনি।
চার-পাঁচ দিন আগে হত্যার সন্দেহ
এসআই সারোয়ার হোসেন জানান, মরদেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, চার-পাঁচ দিন আগে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশের সন্দেহ, হত্যার পর মরদেহ পানিতে ডুবিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে গলার সঙ্গে ইট বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
তবে ওই ব্যক্তিকে কোথায় এবং কীভাবে হত্যা করা হয়েছে কিংবা তাঁর মৃত্যু আদৌ হত্যাকাণ্ডের কারণে হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করতে বিভিন্ন থানা ও নৌপুলিশ ফাঁড়িতে মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাঠানো হয়েছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি তাঁর মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মন্তব্য