খুলনায় গত দুই বছরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অন্তত ১০ নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। দলীয় কোন্দল, পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতি এবং স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের মধ্যে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার কয়েকটির তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় অপরাধীদের বিচার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা গুলি, ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও পিটুনিতে নিহত হয়েছেন। একই সময়ে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
সর্বশেষ ২৪ থেকে ২৭ অক্টোবরের মধ্যে যুবদলের তিন নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে বটিয়াঘাটায় প্রায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনকে গুলি করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান চলার মধ্যেও এসব হামলা ঘটেছে।
স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক আধিপত্য, সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও বিভিন্ন স্বার্থকে কেন্দ্র করে বিরোধ সহিংসতায় রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কয়েকটি ঘটনায় হামলাকারীদের পরিচয় ও হত্যার উদ্দেশ্য এখনো তদন্তাধীন।
দলীয় কোন্দলে সংঘর্ষ, চার দিনে তিন যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ
খুলনার তেরখাদায় যুবদল ও ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ বিরোধে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
গত ২০ অক্টোবর উপজেলার কাটেঙ্গা বাজারে সংগঠন দুটির দুটি পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচ থেকে সাতজন আহত হন।
স্থানীয় সূত্রের হিসাবে, চলতি বছরে তেরখাদাসহ খুলনার কয়েকটি এলাকায় যুবদল ও ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ বিরোধে সংঘর্ষে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনার চার দিন পর, ২৪ অক্টোবর তেরখাদার পারহাজীগ্রামে গুলিবিদ্ধ হন মধুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি রামিম বিশ্বাস (৩২)।
তিনি ভ্যানে করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পিঠে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এরপর ২৬ অক্টোবর রাতে বটিয়াঘাটায় গুলিবিদ্ধ হন যুবদল নেতা সোহেল শেখ (৩৬)। তিনি আমিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
বড় করিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে মোটরসাইকেলে বসে থাকা অবস্থায় দুটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তাঁর ডান হাত ও পেটে গুলি লাগে। প্রথমে খুলনায় চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
পরদিন ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষে বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন সাবেক যুবদল নেতা ও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ওহিদুল ইসলাম বাদল (৩৮)।
বটিয়াঘাটার চক্রাখালী মোড়ে দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে তিনটি গুলি ছোড়ে। পরে আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চার দিনের মধ্যে তিন নেতাকে গুলির ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পেশিশক্তির দাপট, একের পর এক হত্যাকাণ্ড
খুলনায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা নতুন নয়।
২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর রাতে নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিন মোল্লা বোয়িংকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ২১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মানিক হাওলাদারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়।
একই বছরের ১১ জুলাই দৌলতপুর থানা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান মোল্লাকে নিজ বাড়ির সামনে গুলি করে এবং পায়ের রগ কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
২০২৬ সালেও হত্যাকাণ্ড অব্যাহত থাকে।
৭ ফেব্রুয়ারি নগরীর রেলওয়ে হাসপাতাল রোডে পিটুনিতে নিহত হন বিএনপি কর্মী বাবুল মোল্লা।
২৭ ফেব্রুয়ারি দিঘলিয়ার সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মুরাদ খানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
৪ মার্চ নগরীর ডাকবাংলো মোড়ে প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহকে।
এর ১২ দিন পর, ১৬ মার্চ দৌলতপুরের কেডিএ কল্পতরু মার্কেটে গুলিতে নিহত হন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাশিকুল আনাম রাশু।
১২ জুন লবণচরা থানার মাথাভাঙা এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম গাজী ওরফে ঢাকাইয়া রফিককে।
এরপর রূপসায় একই পরিবারের বাবা ও ছেলে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
২৫ আগস্ট নিহত হন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত জয় ঢালী। এর ৪১ দিন পর, ৫ অক্টোবর দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন তাঁর বাবা আক্তার ঢালী। তিনিও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বাবা ও ছেলেকে হত্যার ঘটনা দুটি পরস্পর সম্পর্কিত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এসব হত্যাকাণ্ডের ধরন ও প্রকাশ্য স্থানে সশস্ত্র হামলার ঘটনা খুলনায় অপরাধী চক্রের তৎপরতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তবে সব হত্যাকাণ্ডের পেছনে একই ধরনের বিরোধ কিংবা একই অপরাধী চক্র জড়িত ছিল, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দলীয় স্বার্থের সংঘাত ও আধিপত্যের রাজনীতি
খুলনার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে রাজনৈতিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং সহিংসতার সম্পর্ক বিশেষভাবে সামনে এসেছে।
তেরখাদায় যুবদল ও ছাত্রদলের দুটি পক্ষের সংঘর্ষ তার একটি উদাহরণ। একই রাজনৈতিক ধারার সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধের জেরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কর্তৃত্ব এবং প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে অপরাধী চক্রের স্বার্থ জড়িয়ে পড়লে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
তবে খুলনার সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর কোনটি রাজনৈতিক আধিপত্য, ব্যক্তিগত বিরোধ, অর্থনৈতিক স্বার্থ কিংবা অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা পৃথক তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
দলীয় কোন্দলের পাশাপাশি পেশিশক্তির ব্যবহার এবং অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে না পারার বিষয়টিও রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
রাশু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে অগ্রগতি নেই
১৬ মার্চ দৌলতপুরের কেডিএ কল্পতরু মার্কেটে গুলিতে নিহত ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাশিকুল আনাম রাশু হত্যা মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়েও অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাশুর বাবা শরিফুল আনাম ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি।
ছেলের হত্যার বিচার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি করাই বোধ হয় আমাদের অপরাধ হয়ে গেছে।’
পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
সন্তানদের সামনে শ্রমিক দল নেতাকে হত্যা
৪ মার্চ নগরীর ব্যস্ততম ডাকবাংলো মোড়ে প্রকাশ্যে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ।
ঘটনার পরপরই অশোক ঘোষ নামে এক ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশ। তবে মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানা গেছে।
মাসুম বিল্লাহর স্ত্রী ফাতেমাতুজ জোহারা বলেন, ‘বাচ্চাগুলোর সামনেই কীভাবে গুলি করল। ওদের ফাঁসি না হলে এই কষ্ট কখনও যাবে না।’
স্বামীকে হারানোর শোকের পাশাপাশি হত্যাকারীদের বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১১ জুলাই নিহত যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান মোল্লা হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম জানান, তদন্তে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্যপ্রমাণ এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
ফলে গ্রেপ্তার হলেও মামলার তদন্ত পুরোপুরি শেষ হয়নি।
‘বিচার না হওয়ায় আরেকটি হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি হচ্ছে’
খুলনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড এবং বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতারা।
খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, ‘একের পর এক হত্যা হচ্ছে। বিচার না হওয়ায় আরেকটি হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি হচ্ছে।’
খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টুও হত্যাকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, তাঁরা আর এ ধরনের হত্যাকাণ্ড দেখতে চান না। খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তবে এসব হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষ করে একই রাজনৈতিক ধারার সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে দলীয় নেতৃত্বের কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
বিশেষ অভিযানেও থামছে না সশস্ত্র হামলা
খুলনায় হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র হামলা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ অভিযান, ব্লক রেইড এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে।
খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, ৬ অক্টোবর থেকে জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ড ও গুলির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
খুলনা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, হত্যা মামলাগুলোর তদন্ত নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তবে বিশেষ অভিযান শুরুর পরও ২৪ অক্টোবর রামিম বিশ্বাস, ২৬ অক্টোবর সোহেল শেখ এবং ২৭ অক্টোবর ওহিদুল ইসলাম বাদল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
ফলে সশস্ত্র হামলা প্রতিরোধে চলমান অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
খুলনায় রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের পাশাপাশি দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষ বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্বের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অসমাপ্ত হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করা, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নতুন হামলা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ বাড়ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর।

মন্তব্য