ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে নিজ বাসার শোবার ঘর থেকে যুব মহিলা লীগের এক নেত্রীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ডালিয়া আক্তার সুমার (৫০) গলা, মুখমণ্ডল ও কানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল নয়টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার রাসুলপুর বাজার এলাকায় সোনালী ব্যাংক ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ডালিয়া আক্তার সুমা যুব মহিলা লীগের বাস্তা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ছিলেন। তিনি চর বাঘাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করতেন।
শোবার ঘরে পড়ে ছিল মরদেহ
পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে রাসুলপুর বাজারের ওই ভবনে যায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা-পুলিশ।
সেখানে তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটের শোবার ঘরে ডালিয়ার মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁর গলা, মুখমণ্ডল ও কানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ আজগর হোসেন জানান, নিহত নারীর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট।
দুই মেয়ের বিয়ের পর একাই থাকতেন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামী মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ডালিয়া আক্তার সুমা তাঁর দুই মেয়েকে নিয়ে রাসুলপুর বাজারের ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
পরবর্তী সময়ে দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলে তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেন। এরপর থেকে ডালিয়া ফ্ল্যাটটিতে একাই থাকতেন।
তিনি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুব মহিলা লীগের বাস্তা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পাশাপাশি চর বাঘাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ডালিয়াকে কে বা কারা হত্যা করেছে এবং হত্যার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার কিংবা সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করার তথ্য পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য