বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ | Columbus |
| Columbus
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

নাসিরনগরে হিন্দু গৃহবধূর হাত-পা বাঁধা মরদেহ পুকুরে

- ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নিখোঁজের চার দিন পর রত্না দাস (৩০) নামে এক গৃহবধূর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে বাড়ি থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরের একটি পুকুরে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। এ সময় তাঁর হাত-পা রশি দিয়ে ভারী সিমেন্টের স্ল্যাবের মতো একটি বস্তুর সঙ্গে বাঁধা ছিল। গলায় প্যাঁচানো ছিল একটি শাড়ি।

নিহত রত্না দাস উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের কুড়েরহাটি এলাকার সুশীল দাসের স্ত্রী। স্বজনদের অভিযোগ, ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের পর দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দিয়েছে।

পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য কিংবা স্বজনদের করা লুটপাটের অভিযোগ সম্পর্কে তদন্তকারীরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি।

রত্না দাসের বাবার বাড়ি পার্শ্ববর্তী সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মহল্লাল দাস। রত্নার এক বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। তাঁর স্বামী সুশীল দাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের একটি হোটেলে কাজ করেন।

বাড়ি থেকে ৫০ ফুট দূরের পুকুরে মরদেহ

স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন রত্না দাস।

পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। পরদিন রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বামী সুশীল দাস নাসিরনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এর চার দিন পর বুধবার বিকেলে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে কিছু একটা ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কাছে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, পানিতে এক নারীর মরদেহ আংশিক ভাসছে। তাঁর হাত-পা বাঁধা।

বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। স্বজনেরা মরদেহটি রত্না দাসের বলে শনাক্ত করেন।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, রত্নার বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ ফুট দূরের একটি পুকুরে মরদেহটি পাওয়া যায়।

মরদেহের কিছু অংশ পানির ওপরে ভাসছিল এবং বাকি অংশ পানির নিচে ছিল।

তাঁর গলায় একটি শাড়ি প্যাঁচানো ছিল। হাত-পা রশি দিয়ে সিমেন্টের স্ল্যাবের মতো ভারী একটি বস্তুর সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।

যেভাবে মরদেহটি পাওয়া গেছে, তাতে রত্নাকে হত্যার পর পানিতে ডুবিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের পর হত্যার অভিযোগ

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রত্না রাতে ঘরে একা ঘুমাতেন। সেই সুযোগে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে।

পরে তাঁকে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে তাঁদের ধারণা।

রত্নার স্বামীর কাকাতো ভাই বলরাম দাস অভিযোগ করেন, দুর্বৃত্তরা ঘরে থাকা টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। এরপর রত্নার হাত-পা রশি দিয়ে ভারী বস্তুর সঙ্গে বেঁধে পুকুরে ফেলে দিয়েছে।

তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে রত্নাকে হত্যা করা হয়েছে।

তবে বাড়ি থেকে কী পরিমাণ নগদ টাকা কিংবা কত ভরি স্বর্ণালংকার খোয়া গেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

লুটপাটের ঘটনা আদৌ ঘটেছে কি না এবং এর সঙ্গে রত্নার মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা-ও এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

নিহতের মামা বিনোদ দাস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্বজনেরা দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন।

মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্ত

ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুবেল মিয়া জানান, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর তিনি পেয়েছেন।

নাসিরনগর থানার ওসি শাহিনুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে।

পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ময়নাতদন্তের মাধ্যমে রত্নার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যেতে পারে। বিশেষ করে তাঁকে হত্যার পর পুকুরে ফেলা হয়েছিল, নাকি পানিতে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।

পুলিশ রত্নার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা থেকে শুরু করে মরদেহ উদ্ধারের আগপর্যন্ত কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছে।

পাশাপাশি বাড়িতে চুরি বা লুটপাটের অভিযোগ এবং এর সঙ্গে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা এখনো কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি। লুটপাট, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার কিংবা ময়নাতদন্তের ফলাফল প্রকাশের খবর পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য

Scroll to Top