শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | Columbus |
| Columbus
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

শেখ হাসিনার ফেরার আগে গণগ্রেপ্তার ও নির্যাতনের অভিযোগ ওবায়দুল কাদেরের

- ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে সামনে রেখে সারা দেশে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নির্বিচারে গণগ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। একই সঙ্গে কারাগারে আটক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানোর অভিযোগ তুলে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের এসব অভিযোগ করেন। বিবৃতিটি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলেও প্রকাশ করা হয়।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারকে অভিযুক্ত করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে সরকার সারা দেশে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে সামনে রেখে বর্বরোচিত কায়দায় পাকিস্তানি দোসর তারেক জিয়ার সরকার সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে পাইকারি গণগ্রেপ্তার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।’

কারাগারে আটক নেতাকর্মীদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘কারাগারের অভ্যন্তরে আমাদের নেতা-কর্মীরা নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।’

নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চাইল আওয়ামী লীগ

বিবৃতিতে বাংলাদেশে কথিত রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান, বিমসটেক এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা বিশ্বের সকল সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশ, মানবাধিকার সংস্থা, আন্তর্জাতিক মিডিয়া, জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, ওআইসি, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আসিয়ান, বিমসটেক, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তথা বিশ্ববিবেকের কাছে গণতন্ত্র ও মানবতার পরিপন্থী এবং বাংলাদেশে সরকারিভাবে পরিচালিত নিবর্তন ও নির্যাতনমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়ে তিনি আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে, এসব অপরাধের অবসান এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি।’

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা

সহিংস আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিতর্কিত মামলায় তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে।

এর মধ্যেই শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা একাধিকবার জানিয়েছেন।

গত জুলাইয়ে প্রকাশিত রয়টার্সের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরে তিনি এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন।

পরবর্তী সময়ে আগস্টে সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যেও দেশে ফেরার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা। বিদেশে অবস্থান করার পরিবর্তে কারাবরণ, এমনকি মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

এর আগে জুলাইয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হবে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও বলেন, আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সর্বশেষ বিবৃতিতে দলের নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার ও কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

মন্তব্য

Scroll to Top