মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | Columbus |
| Columbus
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

দুই আসামিকে ছাড়াতে থানার সামনে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

- ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁওয়ে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে থানার সামনে লোকজন জড়ো করে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনকে নিয়ে থানার ফটকে অবস্থান, স্লোগান ও আসামিদের মুক্তির দাবিতে পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম রিপন রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

পুলিশের অভিযোগ, একটি মারধরের মামলায় গ্রেপ্তার বিএনপির দুই কর্মীকে ছাড়িয়ে নিতে রিপন দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে থানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ থানার প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতে সংঘবদ্ধভাবে লোকজন জড়ো করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টির প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এ ঘটনা সামনে এসেছে।

দুই আসামিকে ছাড়াতে থানার সামনে মব

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে রুহিয়ার কুজিশহর গ্রামের নাজমিন আক্তার (২১) মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় শনিবার (১০ অক্টোবর) ১১ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন নাজমিন।

মামলার পর রোববার রাত ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে বেলাল হোসেন (৩৫) ও মো. বদিউজ্জামান (৪০) নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসামিদের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন থানার সামনে জড়ো হতে থাকেন। পরে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপনসহ দলটির নেতাকর্মীরা।

পুলিশ জানায়, একপর্যায়ে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। তারা গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানায়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ থানার প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়, যাতে জড়ো হওয়া লোকজন ভেতরে প্রবেশ করতে না পারেন।

রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিলাদুন নবী অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতা রিপন উত্তেজিত হয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

তবে পুলিশ তাঁকে জানায়, মামলার আসামিদের থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁদের আদালতে হাজির করতে হবে।

থানায় যাওয়ার কথা স্বীকার বিএনপি নেতার

জহিরুল ইসলাম রিপন থানায় যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও পুলিশকে ভয়ভীতি দেখানো বা চাপ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপির নিরপরাধ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ কারণে তিনি প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘উপনির্বাচন চলছে। বিকেলে আমাদের দলের প্রার্থী ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। আর রাতেই আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা আমি মেনে নিতে পারিনি।’

অন্যদিকে, গ্রেপ্তার দুই আসামির বড় ভাই রশিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মামলা হওয়ার আগেই টাকার বিনিময়ে তাঁর দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তিনি জানান, জমি নিয়ে তাঁদের সঙ্গে নাজমিনের পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য বিএনপি নেতা রিপন আগেও উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

তবে মামলা হওয়ার আগে আসামিদের গ্রেপ্তার করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিএনপির আরেক নেতার হস্তক্ষেপ

থানার সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবর পেয়ে সেখানে যান রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল জব্বার।

তিনি জানান, থানায় গিয়ে প্রধান ফটকের সামনে অনেক লোকজনকে জড়ো হতে দেখেন। এ অবস্থায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে নেওয়া নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন।

পরে তিনি উপস্থিত লোকজনকে বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। আসামিদের আদালতে নেওয়ার সময় তিনি পুলিশের সঙ্গেও ছিলেন।

এরপর গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা হয়।

শুনানি শেষে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফর রহমান তাঁদের আগামী ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন। ওই দিন মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

মব সৃষ্টি করে পুলিশকে চাপে ফেলার অভিযোগ

রুহিয়া থানার ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের চেষ্টার অভিযোগকে সামনে এনেছে।

মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার, তদন্ত কিংবা মুক্তির বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়ার কথা। কিন্তু গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে রাজনৈতিক নেতার উপস্থিতিতে সংঘবদ্ধভাবে থানার সামনে অবস্থান ও স্লোগান দেওয়ার ঘটনা পুলিশের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

শেষ পর্যন্ত পুলিশ দুই আসামিকে আদালতে হাজির করতে সক্ষম হলেও থানার সামনে উত্তেজনা সৃষ্টির ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে আইন প্রয়োগে বাধা দেওয়ার আশঙ্কা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম রিপন পুলিশকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

মন্তব্য

Scroll to Top