দুই দফা স্থান পরিবর্তন করেও জানাজা আয়োজন করা যায়নি বলে দাবি; সায়েন্সল্যাবে হামলা, আহত ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ
ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের জানাজা ঢাকায় আয়োজন করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দুই দফা স্থান পরিবর্তনের পরও রাজধানীর ধানমন্ডির ঈদগাহ মসজিদ ও তাকওয়া মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি বলে দাবি করেছেন সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতারা। এ ঘটনায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখা এবং জানাজায় অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৬/এ এলাকার ঈদগাহ মসজিদ ও ১২/এ এলাকার তাকওয়া মসজিদে রোটনের জানাজাকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে জানা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, দুইবার স্থান পরিবর্তনের পরও রোটনের জানাজা ঢাকায় পড়তে দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে রেখেছে। একই সঙ্গে জানাজা পড়া, মরদেহ ঢাকার বাসায় নেওয়া এবং স্বজনদের শেষবারের মতো মরদেহ দেখার ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও তোলেন তিনি।
এদিকে, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম ফেসবুক পোস্টে রোটনের বেড়ে ওঠা ও শিক্ষাজীবনের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, ঢাকায় রোটনের দীর্ঘদিনের সহপাঠী, সতীর্থ ও স্বজনেরা জানাজায় অংশ নেওয়া এবং শেষবারের মতো মরদেহ দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাহিদ ভূঁইয়া ফেসবুক পোস্টে জানান, জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে তিনি ধানমন্ডির দুই মসজিদ এলাকায় পুলিশ ও ছাত্রদলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখতে পান।
অন্যদিকে, সায়েন্সল্যাব এলাকায় জানাজায় অংশ নিতে আসা রোটনের অনুসারী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অনেকে আহত হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে
কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে হামলা, আহত ব্যক্তিদের সংখ্যা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জানাজা আয়োজন বন্ধের নির্দেশ কে দিয়েছেন, পুলিশের ভূমিকা কী ছিল এবং লাশবাহী গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগের সত্যতা কী—এসব বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রোটনের জানাজা শেষ পর্যন্ত কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে তথ্যও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে পুরো পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।

মন্তব্য