জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট ২০২৬-এ বিশেষ বক্তা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অংশগ্রহণ শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়েছে। ইউরোপভিত্তিক পাঁচটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ সংগঠনের স্মারকলিপি ও পিটিশনের পর এ সিদ্ধান্ত এসেছে।
গত রোববার (১১ অক্টোবর) শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে ড. ইউনূসের বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। গত জুলাইয়ে প্রকাশিত সম্ভাব্য বিশেষ বক্তাদের তালিকায়ও তাঁর নাম ছিল। তবে সম্মেলনের চূড়ান্ত বক্তা তালিকায় তাঁর নাম দেখা যায়নি।
সংগঠনগুলো বাংলাদেশের সাম্প্রতিক হামের পরিস্থিতি, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন এবং টিকার সরবরাহসংকট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তাঁর অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিল। তাদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা ব্যবস্থাপনায় সংকট তৈরি হওয়া এবং জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমে অবহেলার অভিযোগ স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
যৌথ পিটিশনে সংগঠনগুলো তিনটি দাবি জানায়—বিশেষ বক্তা হিসেবে ড. ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, আমন্ত্রণ বহাল থাকলে হামের পরিস্থিতি নিয়ে তাঁকে প্রকাশ্যে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, শিশু চিকিৎসক ও স্বাধীন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা।
তবে সম্মেলন আয়োজকদের যোগাযোগ ও প্রেসবিষয়ক পরিচালক আনা স্টর্মার এবং জ্যেষ্ঠ যোগাযোগ ব্যবস্থাপক ম্যারি অলফের বরাত দিয়ে এমন ধরণের তথ্য প্রকাশিত হয়।
এদিকে সম্মেলনস্থলের বাইরে ড. ইউনূসের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে প্রায় ৪০০ প্রবাসী বাংলাদেশির বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য পুলিশি অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক মিজানুর হক খানকে বার্লিন পুলিশ শনিবার এ বিষয়ে অবহিত করে বলেও দাবি করা হয়েছে।
সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম, ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম, ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ ইন জার্মানি, আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক এবং ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স ইউনূসের বিরুদ্ধে পিটিশন দায়ের করে।
‘সংকট থেকে স্থিতিস্থাপকতা: স্বাস্থ্যের জন্য উদ্ভাবন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবারের ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ, জনস্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্যসেবায় উদ্ভাবন নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সম্মেলনে ১১ ও ১২ অক্টোবরের বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি অংশ নেবার কথা রয়েছে।

মন্তব্য