সিলেট নগরে স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত হৃদয় কুমার হরিজন (৩৫) সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে নগরের সুইপার কলোনিসংলগ্ন কাস্টঘর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয় এক ব্যক্তি হৃদয়ের স্ত্রীর ছবি তুলছিলেন। হৃদয় এর প্রতিবাদ করলে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে ওই ব্যক্তি সহযোগীদের নিয়ে ফিরে এসে তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও সুইপার কলোনির বাসিন্দাদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদ থেকে হত্যাকাণ্ড
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার রাত ৮টার দিকে কাস্টঘর এলাকায় হৃদয়ের স্ত্রী পিংকী রানীর দিকে মুঠোফোনের ক্যামেরা তাক করে ছবি তুলছিলেন আমিন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি।
বিষয়টি হৃদয়ের নজরে এলে তিনি এগিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও তর্কাতর্কি হয়।
একপর্যায়ে আমিন ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। পরে মুঠোফোনে কল করে কয়েকজন সহযোগীকে ডেকে আনেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
কিছুক্ষণের মধ্যেই আমিনের নেতৃত্বে একদল যুবক ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে ফিরে আসে। তারা হৃদয়ের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই হৃদয়ের মৃত্যু হয়।
চার সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় পরিবার
হৃদয় কুমার হরিজন কাস্টঘর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করে তিনি স্ত্রী ও চার সন্তানের সংসার চালাতেন।
হামলার খবর পেয়ে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাঁকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
নিহতের ছোট ভাই অজয় কুমার হরিজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বৌদির ছবি তোলার প্রতিবাদ করাই কি দাদার অপরাধ ছিল? প্রকাশ্যে আমিন ও তার সহযোগীরা মিলে আমার দাদাকে ছুরি মেরে হত্যা করল।’
চার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘চারটা অবুঝ সন্তান নিয়ে বৌদি এখন কোথায় দাঁড়াবে? আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
হৃদয়ের মৃত্যুতে সুইপার কলোনির বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের অভিযান
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মইনুল জাকির হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হৃদয়কে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁর স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে। প্রধান অভিযুক্ত আমিনসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।

মন্তব্য