নিউইয়র্ক – দেশে তাঁর শাসনামল নিয়ে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ কি এবার দেশের বাইরেও দৃশ্যমান হচ্ছে? নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোমবার সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে একদল প্রবাসী বাংলাদেশির বিক্ষোভ এমন প্রশ্নই সামনে এনেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরে ইউনূসকে ঘিরে কয়েকজন স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁদের মুখে শোনা যায়, ‘ইউ আর আ টেররিস্ট’, ‘ইউ কিলড বাংলাদেশিজ’, ‘ইউ ডেস্ট্রয়েড বাংলাদেশ’ এবং ‘গো ব্যাক’-এর মতো স্লোগান। কেউ কেউ তাঁকে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী বলেও অভিযুক্ত করেন।
সোমবার বিকেল ৪টার দিকে দোহা থেকে কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট ৭০১-এ জেএফকে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর টার্মিনালে পৌঁছান ইউনূস। হুইলচেয়ারে করে বাইরে আসার সময় একদল প্রবাসী তাঁকে ঘিরে ধরে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতির মধ্যে ইউনূস ও লামিয়া মোরশেদ দ্রুত টার্মিনালের ভেতরে ফিরে যান বলে জানা গেছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ইউনূস একসময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচিত হলেও, তাঁর সরকারের কর্মকাণ্ড ও শাসনামল নিয়ে অসন্তোষের অভিযোগ এখন দেশের বাইরেও রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে। জেএফকে বিমানবন্দরের এই ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্তত একটি অংশের ক্ষোভের প্রকাশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে এই বিক্ষোভ বৃহত্তর প্রবাসী জনগোষ্ঠীর মনোভাবের প্রতিনিধিত্ব করে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য এখনো নেই।
এদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইউনূসের সঙ্গে ঘটে যাওয়া আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মিশনকে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
ঘটনাটি একদিকে যেমন রাজনৈতিক বিরোধের আন্তর্জাতিক বিস্তারের প্রশ্ন সামনে এনেছে, অন্যদিকে তেমনি ইউনূসের শাসনামল নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে কী ধরনের মনোভাব তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

মন্তব্য