বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ | Columbus |
| Columbus
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

মাগুরায় বাস কাউন্টারে যুবদল নেতাকে মাথায় গুলি করে হত্যা

- ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন

মাগুরা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে একটি পরিবহন কাউন্টারের ভেতরে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে জাতীয়তাবাদী যুবদলের এক নেতাকে। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

নিহত মো. শাকের হোসেন (৩৮) মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টার সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন।

প্রথমে তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও ময়নাতদন্তে মাথার ভেতর থেকে গুলি উদ্ধার হওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যায়, তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন ময়নাতদন্তে গুলি উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহেরও চেষ্টা করছে পুলিশ।

মোটরসাইকেলে এসে কাউন্টারের ভেতরে গুলি

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে আসেন।

তাঁদের একজন রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারের ভেতরে প্রবেশ করেন। অন্যজন মোটরসাইকেল নিয়ে বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন।

এ সময় বাইরে অবস্থানকারী ব্যক্তি বারবার মোটরসাইকেলের হর্ন বাজাচ্ছিলেন অথবা ইঞ্জিনের শব্দ বাড়াচ্ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

এর মধ্যেই কাউন্টারের ভেতরে থাকা ব্যক্তি শাকের হোসেনের মাথায় গুলি করেন। এরপর দ্রুত বাইরে বেরিয়ে অপেক্ষমাণ সহযোগীর মোটরসাইকেলে উঠে পালিয়ে যান।

হত্যার উদ্দেশ্য কিংবা হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।

গুলি করার পর শাকের হোসেন কাউন্টারের ভেতরেই লুটিয়ে পড়েন।

প্রথমে আশপাশের লোকজন ধারণা করেছিলেন, তিনি স্ট্রোক করেছেন অথবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

পরে তাঁকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় চিকিৎসকেরা তাঁর মাথার পেছনে ছোট একটি ক্ষতচিহ্ন দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশকে জানানো হয়।

ময়নাতদন্তে মাথা থেকে গুলি উদ্ধার

বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্তের সময় শাকের হোসেনের মাথার ভেতর থেকে একটি গুলি উদ্ধার করেন চিকিৎসকেরা।

এরপর তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।

মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, উদ্ধার করা গুলিটি ব্যালিস্টিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।

কী ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ব্যালিস্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ।

পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে হামলাকারীদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ এবং তদন্ত কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।

ময়নাতদন্তের পর পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের খবরও পাওয়া যায়নি।

হত্যার প্রতিবাদে বিএনপি ও যুবদলের বিক্ষোভ

যুবদল নেতা শাকের হোসেনের হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে মাগুরায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিএনপি, যুবদল ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

বিক্ষোভকারীরা হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সড়ক অবরোধ করেন। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

ঘটনার পর মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তিনি স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহনশ্রমিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

হাসপাতাল পরিদর্শনের পর সংসদ সদস্য বলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে তাঁর ধারণা।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

এদিকে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী যুবদল নেতা হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি হত্যাকাণ্ডকে উদ্বেগজনক সহিংস ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।

দুই মেয়েকে রেখে গেলেন শাকের

নিহত শাকের হোসেন মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী বেপারীপাড়া এলাকার প্রয়াত কুতুব উদ্দিনের ছেলে।

তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তাঁর দুই মেয়ে রয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সংসারের খরচ চালাতে তিনি মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে পরিবহন কাউন্টারে চাকরি করতেন। পাশাপাশি স্থানীয় যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

শাকেরের বড় ভাই রাজমীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

পরিবারের দাবি, শাকেরের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না।

তাঁর বড় ভাই জানান, গত ১৭ বছরে শাকেরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারণে ১০টি মামলা হয়েছিল।

শাকেরের শ্বশুর আবদুল আজিজ তাঁকে নিজের ছেলের মতো দেখতেন বলে জানান। তিনি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

বুধবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে শাকের হোসেনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরে মরদেহ তাঁর বাড়িতে নেওয়া হলে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে ভিড় করেন।

পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য

Scroll to Top