বগুড়া জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় সোহরাব হোসেন নামে যুবলীগের এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) গভীর রাতে অথবা শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকলেও কারাগারে তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।
সোহরাব হোসেন বগুড়ার ধুনট পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এক প্রার্থীর প্রচারণায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে করা মামলায় গত ২ আগস্ট গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি বগুড়া জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে পরিবারের দাবি, মৃত্যুর চার-পাঁচ দিন আগে থেকেই তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন।
চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ পরিবারের
নিহত সোহরাব হোসেনের স্ত্রী রনি খাতুন অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী কারাগারে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি।
মৃত্যুর আগে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও যথাসময়ে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোহরাবের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম জানান, কারা কর্তৃপক্ষ তাঁদের জানিয়েছে, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে সোহরাবের মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, মৃত্যুর চার-পাঁচ দিন আগে থেকেই তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন।
বগুড়া জেলা কারাগারের জেল সুপার আসাদুর রহমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহরাবের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ার পর তাঁকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সোহরাবের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়নি।
২০১৮ সালের নির্বাচনের মামলায় কারাবন্দি ছিলেন
সোহরাব হোসেন ধুনট পৌরসভার সদরপাড়া এলাকার প্রয়াত রহম আলী হাজির ছেলে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট তাঁকে আটক করার পর ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের নির্বাচনি প্রচারণায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এরপর থেকে তিনি বগুড়া জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচনসংক্রান্ত ওই মামলায় সোহরাব কারাগারে ছিলেন।
শুক্রবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোহরাবের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরে আসরের নামাজের পর ধুনটের চরধুনট এলাকার জান্নাতুল ফেরদৌস কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

মন্তব্য