বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | Ashburn |
| Ashburn
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

ডিবি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ, সংকটাপন্ন ইউপি চেয়ারম্যান মজনু

- ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন

ফরিদপুর সদর উপজেলার ১নং ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সহীদুল ইসলাম মজনুকে ডিবি হেফাজতে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের যন্ত্রণায় হেফাজতেই স্ট্রোক করে তিনি বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

জানা যায়, সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা চলছিল। ওই সভায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহীদুল ইসলাম মজনু। প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মিটিং চলাকালীন তিনি ওয়াশরুমে গেলে সেখানেই জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) একটি দল তাকে ঘিরে ফেলে। কোনো ওয়ারেন্ট দেখানো ছাড়াই তাকে আটক করে দ্রুত ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সরকারি একটি আনুষ্ঠানিক সভা থেকে এভাবে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় উপস্থিত অন্যান্য চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তাদের মধ্যে হতবাক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

ডিবি কার্যালয়ে টর্চারের অভিযোগ

পরিবারের অভিযোগ, ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের নামে তার ওপর অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই পাশবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি লক-আপের ভেতরেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এক পর্যায়ে স্ট্রোক করে অচেতন হয়ে যান।

বর্তমান শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক

অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে ডিবি পুলিশের সদস্যরাই তাকে তড়িঘড়ি করে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, স্ট্রোকের তীব্রতা অত্যন্ত বেশি এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসা ও লাইফ সাপোর্টের জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় রেফার করা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি এবং অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া

একজন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানকে সরকারি সভা থেকে আটক এবং হেফাজতে থাকা অবস্থায় স্ট্রোকের ঘটনায় ফরিদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, মজনু দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। সর্বশেষ একটি যাত্রীবাহী বাস পোড়ানোর মামলায় তাকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ বোধ করলে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়।

মন্তব্য

Scroll to Top