মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Columbus |
| Columbus
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

নারীর বিদেশযাত্রায় লিঙ্গভিত্তিক বাধা নিয়ে হাইকোর্টের প্রশ্ন

- ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১২ অপরাহ্ন

প্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারী অবিবাহিত, মা-বাবা বা অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ করছেন কিংবা বিদেশযাত্রায় পরিবারের সম্মতি নেই—শুধু এমন বিবেচনায় তার বৈধ বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ ধরনের লিঙ্গভিত্তিক বাধা ঠেকাতে যথাযথ নির্দেশনা প্রণয়ন ও জারি করা হবে না কেন, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন আদালত।

বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর এ রুল জারি করেন। বৈধ ভ্রমণ নথি থাকার পরও বিদেশ যেতে বাধা পাওয়া তিন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর করা রিটের শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দেন।

রুলে প্রাপ্তবয়স্ক নারী নাগরিকদের বৈধ বিদেশযাত্রায় শুধু অবিবাহিত হওয়া, অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ করা কিংবা এ ধরনের লিঙ্গভিত্তিক বিবেচনায় বাধা না দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ নির্দেশনা প্রণয়ন ও জারির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে ওই তিন নারীকে বাংলাদেশ ত্যাগে বাধা দেওয়ার ঘটনা কেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তারও ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত।

রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী ইশরাত হাসান আদালতকে জানান, তিন নারীই প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদের বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা ও উড়োজাহাজের টিকিট ছিল। তা সত্ত্বেও তাদের বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইমিগ্রেশনে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় তারা বিবাহিত কি না এবং তাদের পরিবার বিদেশযাত্রার বিষয়টি জানে কি না। এমনকি তাদের বাড়িতেও ফোন করা হয়। এরপরও তাদের দেশ ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এই ঘটনার পর তিন নারী হাইকোর্টে রিট করেন।

রিট আবেদনকারীদের বক্তব্য, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী অবিবাহিত কি না, তার সঙ্গে মা-বাবা বা অভিভাবক আছেন কি না কিংবা তার বিদেশযাত্রার বিষয়ে পরিবারের সম্মতি রয়েছে কি না—এসব বিষয় বৈধ বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার স্বতন্ত্র আইনি ভিত্তি হতে পারে না।

তারা দাবি করেন, এ ধরনের আচরণ সংবিধানে থাকা সমতা, লিঙ্গবৈষম্যবিরোধী সুরক্ষা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং চলাফেরার স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ২৮ অনুচ্ছেদে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি কেবল লিঙ্গের কারণে নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রিটে ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে থাকা আইনের আশ্রয় ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদে জনস্বার্থে আইনের মাধ্যমে আরোপিত যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে নাগরিকের চলাফেরা এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও পুনঃপ্রবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

আদালত পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে আবেদনকারী তিন নারীর অভিযোগ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে তাদের বিদেশযাত্রায় আইনগত কোনো কারণ ছাড়া বাধা না দিতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান জুই। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।

মন্তব্য

Scroll to Top