সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | New York City |
| New York City
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

অনুমতি থাকার পরও জাসদ কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান, ‘মব সন্ত্রাসের’ অভিযোগ

- ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৬ অপরাহ্ন

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল—জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিনিধি সভা চলাকালে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দলটির নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, সভাটি আয়োজনের জন্য আগে থেকেই পুলিশের কাছে লিখিত আবেদন করে মাইক ব্যবহারের অনুমতি ও সার্বিক নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছিল। এরপরও প্রতিনিধি সভাস্থলে পুলিশি হস্তক্ষেপ এবং সভাকে ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের স্বাক্ষরিত ২৩ সেপ্টেম্বরের একটি চিঠিতে দেখা যায়, ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ৩৫-৩৬ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, গুলিস্তানের কর্নেল তাহের মিলনায়তনে প্রতিনিধি সভা আয়োজনের কথা জানানো হয়। চিঠিতে মাইক ব্যবহারের অনুমতি এবং সভা নির্বিঘ্নে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল।

প্রতিনিধি সভার জন্য পুলিশের কাছে আগেই লিখিত আবেদন; অনুমতির তথ্য থাকার পরও সভাস্থলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
প্রতিনিধি সভার জন্য পুলিশের কাছে আগেই লিখিত আবেদন; অনুমতির তথ্য থাকার পরও সভাস্থলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

চিঠিটি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পুলিশ কমিশনার বরাবর পাঠানো হয়। সেখানে বিশেষভাবে রমনা জোনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

জাসদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সভায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলের প্রতিনিধি ও নেতাকর্মীদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। দলটির কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম রবিউল আলমের সভাপতিত্বে প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

এ অবস্থায় সভাস্থলে একদল লোকের উপস্থিতি এবং পরবর্তী পুলিশি তৎপরতা নিয়ে জাসদের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। দলটির অভিযোগ, একটি বৈধ রাজনৈতিক সভাকে ‘আওয়ামী লীগের মিটিং’ হিসেবে চিহ্নিত করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জাসদ কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে কয়েকজনকে আটকের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে জাসদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিনিধি সভাটি তাদের নিজস্ব সাংগঠনিক কর্মসূচি এবং এর আয়োজন সম্পর্কে পুলিশকে আগেই লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল।

এই পরিস্থিতিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—যে রাজনৈতিক কর্মসূচির বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগেই লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল এবং নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছিল, সেই কর্মসূচির সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা কী ছিল এবং কী ভিত্তিতে সভাস্থলে অভিযান বা হস্তক্ষেপ করা হলো?

জাসদের পক্ষ থেকে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক সভায় কারা অংশ নিচ্ছেন বা সভার উদ্দেশ্য কী—তা যাচাই করার পরিবর্তে বাইরে থেকে আসা কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ যদি একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে দেশে রাজনৈতিক সভা ও সংগঠনের স্বাধীনতার প্রশ্নটি কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে সভা করার অধিকার এবং সেই সভায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব—এমন বক্তব্যও উঠে এসেছে।

জাসদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, কোনো সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বা সভার উদ্দেশ্য যাচাই না করে সেটিকে অন্য কোনো দলের সভা হিসেবে উপস্থাপন করা হলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

এদিকে পুলিশের বক্তব্য ও অভিযানের সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ, পুলিশের কাছে আগে থেকেই দেওয়া লিখিত আবেদন ও অনুমতির নথি থাকলে সেটি বিবেচনায় নিয়েই ওই দিনের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করা গুরুত্বপূর্ণ।

জাসদের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক অধিকার ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রশ্ন হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতের সঙ্গে দ্বিমত থাকা যেতে পারে, কিন্তু কোনো দলের সভা বন্ধ করা, কর্মীদের ভয় দেখানো কিংবা মবের মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মসূচি পণ্ড করার পরিবেশ তৈরি করা গণতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মন্তব্য

Scroll to Top