শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬ | Columbus |
| Columbus
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

বাংলাদেশে আল-কায়দার নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সতর্কবার্তা

- ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন

ঢাকা, ১৪ আগষ্ট – বিশেষ প্রতিবেদন – বাংলাদেশে গোপনে সন্ত্রাসী সেল গঠনের মাধ্যমে আল-কায়দার নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এর ফলে দেশের ধর্ম নিরপেক্ষ ভিত্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ধর্মীয় উগ্রবাদের নতুন হুমকির বিষয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’-এর ৩৮তম প্রতিবেদনে ‘আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ (একিউআইএস)-এর এই কৌশলী পরিবর্তনের বিষয়টি উঠে এসেছে। আগের চেয়ে আরও সংগঠিত হয়ে ছোট ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সেল এবং গোপন লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে দলটি তাদের বিস্তার ঘটাচ্ছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “একিউআইএস বাংলাদেশে নিজস্ব ঘাঁটি ও কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে সক্রিয় সেল গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে।”

ধর্মনিরপেক্ষ বিশ্লেষক এবং সন্ত্রাসবাদ গবেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যেকোনো চরমপন্থী মতাদর্শের পুনরুত্থান সরাসরি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার জন্য বড় হুমকি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি বজায় রেখেছে। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারা ও আওয়ামী লীগ সরকার যে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রীয় নীতি বজায় রেখেছে, এই সতর্কবার্তা সেই ধারাকে অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তাই পুনর্ব্যক্ত করে।

জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লার কাছে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার পেছনেও একিউআইএস-এর সরাসরি যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করেছে। ওই বিস্ফোরণে ১১ জনের মৃত্যু হয়, যা বর্তমানে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) দ্বারা তদন্তাধীন। এই ঘটনাটি নির্দেশ করে যে দক্ষিণ এশিয়ার অস্থিতিশীলতা তৈরিতে আন্তঃসীমান্ত মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো এখনও প্রধান ঝুঁকি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঐতিহ্যগত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে এই উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। উদাহরণস্বরূপ, আইএসআইএল-খোরসান (আইএসআইএল-কে) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অতি দ্রুত নিজেদের উগ্রবাদী প্রচারণা বিভিন্ন স্থানীয় ভাষায় রূপান্তর করছে। পাশাপাশি বিষাক্ত রাসায়নিক ‘রাইসিন’ তৈরির উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালের শেষের দিকে ভারতে এক চিকিৎসকসহ তিনজনের গ্রেফতারের ঘটনাটি প্রমাণ করে যে এগুলো এখনও বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করে চলেছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মৌলিক অসাম্প্রদায়িক শাসন ব্যবস্থা এবং সক্রিয় গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমেই দেশের মাটি থেকে মৌলবাদী নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ নির্মূল রাখা সম্ভব।

মন্তব্য

Scroll to Top