বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Ashburn |
| Ashburn
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

জুলাইয়ের হিসাব: ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও অমীমাংসিত প্রশ্ন

- ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে “জুলাই” এখন শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনার নাম নয়। এটি হয়ে উঠেছে ইতিহাসের ব্যাখ্যা, নিহতদের সংখ্যা, রাজনৈতিক দায় এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গভীর বিতর্কের প্রতীক।

গত দুই বছরে জুলাইকে ঘিরে যে বয়ান তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে প্রকাশিত বিভিন্ন পরিসংখ্যান, নিহতদের পরিচয় এবং ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে যে প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে, সেগুলোর উত্তর এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

সেই কারণেই প্রশ্নটি সরল: জুলাইয়ের প্রকৃত ইতিহাস কি আমরা সম্পূর্ণভাবে জানতে পেরেছি?
১৪০০ নিহতের তালিকা থেকে ৮৪১: প্রশ্নের শুরু এখানেই
জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে জাতিসংঘের প্রায় ১,৪০০ নিহতের একটি সংখ্যা বহুলভাবে আলোচিত হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ৮৪১ জনের একটি তালিকা প্রকাশের পরও তাদের পরিচয় ও মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
দাবি করা হচ্ছে, ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স বা এনএসআই ৮৪১ জনের মধ্যে মাত্র ৩১৪ জনের নাম ও মৃত্যুর তারিখ শনাক্ত করতে পেরেছে।

যদি এই তথ্য সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই: এত বড় একটি জাতীয় ঘটনার প্রায় দুই বছর পরও নিহতদের পূর্ণাঙ্গ ও যাচাইযোগ্য তালিকা কেন জনগণের সামনে উপস্থাপন করা সম্ভব হলো না?

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিহত মানুষের পরিচয়, মৃত্যুর কারণ এবং মৃত্যুর স্থান নিয়ে স্বচ্ছতা থাকা উচিত। বিশেষ করে যখন সেই মৃত্যুর ওপর ভিত্তি করেই একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের ঐতিহাসিক বৈধতা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
ঢাকার ৩২৪ মৃত্যু এবং অনুপস্থিত প্রশ্ন
প্রকাশিত তথ্যের একটি অংশে ঢাকার উত্তরা, মিরপুর, রামপুরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় যথাক্রমে ৭০, ৬২, ৩২ এবং ১১৭ জন নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই চার এলাকার সংখ্যা যোগ করলে দাঁড়ায় ২৮১ জন, তাই প্রচলিত ৩২৪ সংখ্যাটির উৎস ও শ্রেণিবিন্যাসও পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।

এখানেই একটি মৌলিক প্রশ্ন আসে: নিহত প্রত্যেক ব্যক্তির পরিচয়, মৃত্যুর তারিখ, স্থান এবং সম্ভব হলে ময়নাতদন্তের তথ্য কি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়েছে?
যদি না হয়ে থাকে, তাহলে কেন?
এই প্রশ্ন কোনো একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতার প্রশ্ন হিসেবেই দেখা উচিত।
নিহতদের পরিচয় কি জুলাইয়ের প্রকৃত চরিত্র বদলে দেয়?

দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত ৪ থেকে ৬ আগস্টের বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে যে হিসাব সামনে এসেছে, তাতে নিহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী, আওয়ামী লীগের কর্মী, বিএনপির কর্মী এবং পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
উত্থাপিত হিসাবে বলা হচ্ছে, নিহতদের মধ্যে মাত্র ২৩ জন শিক্ষার্থী, ৮৭ জন আওয়ামী লীগের কর্মী, ১২ জন বিএনপির কর্মী এবং ৩৬ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন।

এই হিসাবকে যদি নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ ধরা হয়, তাহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে।
একটি আন্দোলন যদি প্রধানত ছাত্র আন্দোলন হিসেবে ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে নিহতদের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয়ের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ কি করা হয়েছে?

আর যদি আন্দোলনের সময় সরকারপন্থী এবং বিরোধী উভয় পক্ষের মানুষ নিহত হয়ে থাকেন, তাহলে জুলাইয়ের সহিংসতাকে কেবল একটি পক্ষের ওপর দায় চাপিয়ে ব্যাখ্যা করা কতটা ঐতিহাসিকভাবে গ্রহণযোগ্য?
৫ ও ৬ আগস্ট: সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত অধ্যায়
জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি সম্ভবত ৫ ও ৬ আগস্টের মৃত্যুর সংখ্যা।
প্রথম আলোর প্রকাশিত তথ্যের একটি হিসাবে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট ১০৮ জন এবং ৬ আগস্ট ১০৭ জন নিহত হন। অর্থাৎ দুই দিনে মোট ২১৫ জনের মৃত্যু ঘটে।

এই সংখ্যা যদি সঠিক হয়, তাহলে জুলাইয়ের আগের ৩৬ দিনের সহিংসতার সঙ্গে শেষ দুই দিনের মৃত্যুর তুলনা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সৃষ্টি করে।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পরও এত বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হলো কেন?
এই ২১৫ জন কারা ছিলেন?
তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী ছিল?
তাদের মৃত্যুর কারণ কী?
তাদের হত্যার জন্য কারা দায়ী?
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, এসব মৃত্যুর বিষয়ে কি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়েছে?
ইতিহাসের বিচারে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জুলাই কি শুধু ছাত্র আন্দোলন ছিল?

জুলাইয়ের ঘটনাকে যদি কেবল একটি ছাত্র আন্দোলন হিসেবে দেখা হয়, তাহলে নিহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এবং মৃত্যুর কারণের বিশ্লেষণ অপরিহার্য।

কারণ, একই সময়ে ছাত্র, সাধারণ মানুষ, পুলিশ, আওয়ামী লীগের কর্মী, বিএনপির কর্মী এবং রাজনৈতিক পরিচয়হীন মানুষও নিহত হওয়ার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।

এমন বাস্তবতা থাকলে জুলাইকে একমাত্রিক রাজনৈতিক বয়ানে সীমাবদ্ধ করা ইতিহাসের প্রতি সুবিচার নাও হতে পারে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিহতদের মধ্যে শিশুদের উপস্থিতির প্রশ্ন।
প্রকাশিত বিভিন্ন হিসাবে জুলাইয়ে নিহত শিশুর সংখ্যা প্রায় ৭০ বলা হয়েছে।
শিশুরা কোনো রাজনৈতিক দলের সংগঠিত রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ ছিল না। ফলে তাদের মৃত্যু কীভাবে ঘটেছিল, কোন পরিস্থিতিতে ঘটেছিল এবং কার দায় ছিল, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

রায়েরবাজারের কবরগুলোও প্রশ্ন করছে
জুলাইয়ের নিহতদের পরিচয় নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে রায়েরবাজারে দাফন করা মরদেহ নিয়ে।
দাবি করা হয়েছে, জুলাই যোদ্ধা পরিচয়ে ১১৪ জনকে সেখানে দাফন করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ৯ জনকে আত্মীয়স্বজন শনাক্ত করতে এসেছিলেন বলে একটি দাবি প্রচলিত হয়েছে।

যদি এই তথ্য সত্য হয়, তাহলে বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় এবং তাদের পরিবারের অনুপস্থিতির বিষয়টি অবশ্যই তদন্তের দাবি রাখে।
একজন মানুষ নিখোঁজ হলে সাধারণত তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং পরিচিতজনেরা তাকে খুঁজবেন। ফলে দীর্ঘ সময় পরও পরিচয়হীন মরদেহের সংখ্যা কেন এত বেশি রয়ে গেল, তা একটি স্বাভাবিক ও যৌক্তিক প্রশ্ন।

এখানে আবেগ নয়, প্রয়োজন নথি, ডিএনএ পরীক্ষা, ময়নাতদন্ত এবং স্বাধীন তদন্ত।

দায় কি একতরফা হতে পারে?
জুলাইয়ের সহিংসতার বিচার যদি কেবল একটি রাজনৈতিক পক্ষের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়, অথচ একই সময়ে নিহত অন্য পক্ষের মানুষদের হত্যার বিষয়ে কোনো তদন্ত না হয়, তাহলে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন থেকেই যাবে।
যদি আওয়ামী লীগের কর্মী নিহত হয়ে থাকেন, তাদের পরিবারেরও বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।
যদি পুলিশ নিহত হয়ে থাকে, তাদের পরিবারেরও বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।
যদি বিএনপি বা জামায়াতের কর্মী নিহত হয়ে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য।
ন্যায়বিচারের কোনো রাজনৈতিক দল থাকা উচিত নয়।
একটি হত্যার বিচার তখনই ন্যায়বিচার হয়, যখন হত্যাকারীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে অপরাধের ভিত্তিতে বিচার করা হয়।

জুলাইয়ের পরের বাংলাদেশও কি তদন্তের দাবি রাখে?
আরেকটি বিষয় এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
জুলাইয়ের পর বাংলাদেশে মব ভায়োলেন্স, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ নিয়ে বহু প্রশ্ন উঠেছে।
যদি শত শত মানুষ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে সহিংসতার শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে সেসব ঘটনাও স্বাধীনভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে দুর্বল হয়ে যেতে পারে না।
কারণ একটি সরকারের পতন কখনো আইনের শাসনের পতন হতে পারে না।
২০২৬ সালের জুলাই: সহিংসতার নতুন পরিসংখ্যান
২০২৬ সালের জুলাই মাসের রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়েও উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছে।
কালের কণ্ঠের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করা হয়েছে, বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ২৩ জন নিহত এবং ৪৭৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

এছাড়া বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও ৪৮ জন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ১৪টি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সময়ে ৪৯টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
যদি এসব তথ্য সঠিক হয়, তাহলে প্রশ্নটি আরও বড় হয়ে যায়: রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও বাংলাদেশ কেন সহিংসতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না?
এটি কেবল কোনো একটি দলের ব্যর্থতা নয়।
এটি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং আইনের শাসনের জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
জুলাইয়ের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হলে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন
জুলাইকে নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন এখন নতুন কোনো রাজনৈতিক বয়ান নয়।
প্রয়োজন একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন এবং বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত।

কতজন নিহত হয়েছেন?
তাদের প্রত্যেকের নাম কী?
কোথায় তারা নিহত হয়েছেন?
কীভাবে নিহত হয়েছেন?
কারা দায়ী?
কতজন শিক্ষার্থী?
কতজন শিশু?
কতজন পুলিশ?
কতজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী?
কতজন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পরিচয়হীন সাধারণ মানুষ?
এই প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

কারণ ইতিহাসকে যদি রাজনৈতিক সুবিধার জন্য সাজানো হয়, তাহলে একদিন সেই ইতিহাসই নতুন রাজনৈতিক সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

জুলাইয়ের বিচার হতে হবে সবার জন্য
জুলাইকে গণহত্যা বলা হবে, রাজনৈতিক সহিংসতা বলা হবে, না কি একটি বৃহত্তর ক্ষমতার সংঘাত হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত আবেগ দিয়ে নয়, প্রমাণ দিয়ে হওয়া উচিত।

যদি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ থাকে, বিচার হোক।
যদি বিএনপি বা জামায়াতের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যার প্রমাণ থাকে, বিচার হোক।
যদি কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্য অপরাধ করে থাকেন, তারও বিচার হোক।
যদি কোনো অরাজনৈতিক ব্যক্তি হত্যার শিকার হয়ে থাকেন, তার পরিবারও ন্যায়বিচার পাক।
এটাই আইনের শাসন।

ইতিহাসকে রাজনৈতিক সম্পত্তি বানানো যাবে না
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক ইতিহাস কোনো দলের একক সম্পত্তি নয়।
একইভাবে জুলাইও কোনো রাজনৈতিক দলের স্থায়ী সম্পত্তি হতে পারে না।
একটি জাতির ইতিহাস তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সেখানে প্রশ্ন করার অধিকার থাকে, ভুল স্বীকার করার সাহস থাকে এবং সত্য অনুসন্ধানের স্বাধীনতা থাকে।

আজ বাংলাদেশের সামনে সেই পরীক্ষাই রয়েছে।
জুলাইয়ের নামে যদি সত্যিই অন্যায় হয়ে থাকে, সত্য প্রকাশ করতে হবে।
যদি মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়ে থাকে, সেটিও প্রকাশ করতে হবে।

যদি বহু মানুষ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হত্যার শিকার হয়ে থাকেন, তাদের পরিবারকে ন্যায়বিচার দিতে হবে।
আর যদি কোনো পক্ষ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে বিচারকে রাজনৈতিক প্রতিশোধে পরিণত করে থাকে, তারও জবাবদিহি প্রয়োজন।

শেষ কথা: ইতিহাসের রায় সময়ই দেবে
জুলাইয়ের প্রকৃত ইতিহাস এখনো সম্পূর্ণভাবে লেখা হয়নি।
অনেক প্রশ্নের উত্তর বাকি।
অনেক পরিবারের কান্না এখনো নথিবদ্ধ হয়নি।
অনেক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো অজানা।
অনেক রাজনৈতিক দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো প্রয়োজন।
সুতরাং বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো রাজনৈতিক স্লোগানের পরিবর্তে প্রমাণকে সামনে আনা।
যে কোনো রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় আসতে পারে, আবার ক্ষমতা হারাতেও পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের ইতিহাস কোনো সরকারের সম্পত্তি নয়।

আজকের ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়।
কিন্তু সত্যের অনুসন্ধান দীর্ঘস্থায়ী।
জুলাইকে তাই কোনো পক্ষের রাজনৈতিক ব্যবসা, প্রতিশোধ কিংবা প্রচারণার উপকরণ না বানিয়ে একটি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক তদন্তের বিষয় করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের মানুষ জানতে চায় কী ঘটেছিল।

কে নিহত হয়েছিল।
কারা হত্যা করেছিল।
কেন হত্যা হয়েছিল।
এবং কেন এতদিন পরও এত প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী বিচারক কোনো রাজনৈতিক দল নয়।
সময়।
আর সময়ের সামনে কোনো রাজনৈতিক মুখোশই চিরস্থায়ী নয়।

মন্তব্য

Scroll to Top