বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Falkenstein |
| Falkenstein
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

ডেঙ্গুর প্রকোপে বাড়ছে মৃত্যু

বাংলাদেশ | ১ দিন আগে

বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের অনিশ্চয়তার অবসান

- ০৭ জুন ২০২৬, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে শেষ মুহূর্তে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিশ্চিত হয়েছে যে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সব ম্যাচই দেশের দর্শকরা টেলিভিশনে দেখতে পারবেন। সময় টিভি, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং টি স্পোর্টসের একটি কনসোর্টিয়াম বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব অর্জন করেছে।

এর ফলে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে এই তিনটি টেলিভিশন চ্যানেল। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও ম্যাচগুলো দেখা যাবে। বাংলালিংকের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফি এবং গ্রামীণফোনের স্ট্রিমিং সেবা বায়োস্কোপে বিশ্বকাপের সব ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

বিশ্বকাপ শুরুর দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই ক্রীড়া আসর বাংলাদেশে সম্প্রচার হবে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছিল প্রশ্ন।

জানা গেছে, বাংলাদেশের জন্য ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব প্রথমে কিনেছিল সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর কাছে স্বত্ব বিক্রির চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। পরে তারা চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়।

ফলে বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন বাংলাদেশ কার্যত কোনো নির্ধারিত সম্প্রচারকারী ছাড়াই পড়ে যায়। এমন পরিস্থিতি ফুটবলপ্রেমীদের পাশাপাশি সম্প্রচার খাতের সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করে।

গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের সম্প্রচার নিয়ে সাধারণত অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সম্প্রচারস্বত্ব, বিজ্ঞাপন, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং স্পনসরশিপ—সবকিছুই আগেভাগে চূড়ান্ত করার প্রচলন রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা চলতে থাকায় সম্প্রচার ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠেছে।

বিশেষ করে দেশের কোটি কোটি দর্শকের আগ্রহের বিষয় হওয়া সত্ত্বেও কেন এত দেরিতে সমাধান এলো, সে বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে মনে করছেন, সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে আলোচনাগুলো আরও আগে শুরু হলে এমন অনিশ্চয়তা এড়ানো সম্ভব ছিল।

অবশেষে সময় টিভি, বিটিভি ও টি স্পোর্টস যৌথভাবে সম্প্রচারস্বত্ব অর্জনের মাধ্যমে সংকটের সমাধান করেছে। ফলে দেশের দর্শকরা টেলিভিশনের পাশাপাশি মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসেও খেলা উপভোগ করতে পারবেন।

বাংলালিংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, টফি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারা বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচই সরাসরি সম্প্রচার করবে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, “বাংলালিংক ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ওটিটি স্ট্রিমিং স্বত্ব অর্জন করেছে। এর ফলে বাংলাদেশের দর্শকরা টফি প্ল্যাটফর্মে টুর্নামেন্টের সব ১০৪টি ম্যাচ দেখতে পারবেন।”

এদিকে জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভিকে এ ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক ব্যয় বহন করতে হচ্ছে না। সম্প্রচার ব্যয়ের পুরো দায়িত্ব ভাগাভাগি করে বহন করবে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং টেলিযোগাযোগ অপারেটররা।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হবে ফিফার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে এই প্রতিযোগিতায়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করবে টুর্নামেন্টটি। নতুন ফরম্যাটে ম্যাচের সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪-এ।

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে কখনো অংশ নিতে না পারলেও এ দেশের মানুষের মধ্যে ফুটবলের জনপ্রিয়তা অত্যন্ত বেশি। বিশেষ করে বিশ্বকাপকে ঘিরে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উন্মাদনা, পতাকা উৎসব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

তাই শেষ পর্যন্ত সম্প্রচার-সংকটের সমাধান হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। তবে বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক আসরের সম্প্রচার নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার ঘটনা ভবিষ্যতে বড় ক্রীড়া ইভেন্টের প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

মন্তব্য

Scroll to Top