রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬ | Reading |
| Reading
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা ধানমণ্ডি ৩২ অবরুদ্ধ, গ্রেপ্তার চলছেই

- ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন

ঢাকা, ১৬ আগস্ট  — বিএনপি সরকারের দেয়া কঠোর  বিধিনিষেধ, দানবীয় নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কোটি কোটি বাংঙালির আবেগ আর ভালোবাসায়  গতকাল, ১৫ আগস্ট, বাংলাদেশে পালিত হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের ৫১তম বার্ষিকী।

আগের বছরগুলোর মতো এবারও দিনটি ঘিরে শোক ও স্মরণ কর্মসূচি ছিল, তবে তা ছিল অনেকটাই সীমিত ও বিচ্ছিন্ন। জাতীয় শোক দিবসটি বর্তমানে আর রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে না।  চোখের পানি আড়াল করে,  আর মবের শিকার হবার আতঙ্কে নিজের পরিচয় লুকিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনির অনেক দূরে দাঁড়িয়ে ছিলো শত শত সাধারণ মানুষ শুধু একটিবার তাদের প্রিয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। 

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। একই সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন ছোট পরিসরে শ্রদ্ধা নিবেদন, খাবার বিতরণ, আলোচনা সভা ও সেমিনারের আয়োজন করে। রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিসর সংকুচিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এবার বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্টের স্মরণে ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল। সরকারি উদ্যোগে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মিলাদ, আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা এবং খাদ্য বিতরণসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হতো। তবে ২০২৪ সালে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির হাতে  রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এর রাষ্ট্রীয় চরিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সরকার ১৫ আগস্টকে জাতীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে।

কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো ধানমন্ডি ৩২

১৫ আগস্টের কর্মসূচিকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি নজর ছিল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাবেক বাসভবনটি, যেখানে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ হত্যা করা হয়, গতকাল ছিল কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভবনটি ভেঙে ফেলা হলেও ঐতিহাসিক স্থানটিকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কঠোর। ভোর থেকেই সড়কের দুই পাশে ব্যারিকেড বসানো হয়। যান চলাচল সীমিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি একটি সাঁজোয়া পুলিশ যানও প্রস্তুত রাখা হয়।

এর মধ্যেও কয়েকজন বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সকাল ১০টার দিকে ৩২ বছর বয়সী অর্ণব দাসকে ফুল দিতে যাওয়ার সময় আটক করা হয়। পরে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঢাকার একটি আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশের দাবি, অর্ণব দাসের নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে।

পরে আরও দুই নারীকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দিতে যাওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা সরকারবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন এবং নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের পক্ষে কথা বলেছেন।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের আশপাশে বিধিনিষেধকে কেন্দ্র করে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনারও খবর পাওয়া যায়। দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিও ধারণ, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া এবং খাবার বিতরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৃথক ঘটনায় তিনজনকে মারধর করা হয়।

১৫ আগস্টের আগেই ৫৩ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

১৫ আগস্টকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছিল কয়েক দিন আগেই।

১৩ আগস্ট রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৫৩ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, তারা সেখানে একটি প্রস্তুতি সভায় মিলিত হয়েছিলেন এবং ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে আকস্মিক মিছিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড ছিল এবং তারা এমন কিছু স্লোগান দিচ্ছিলেন, যেগুলোকে কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে বিবেচনা করেছে।

বর্তমানে আওয়ামী লীগ এবং দলটির সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ। ২০২৫ সালের মে মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগ ও এর সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

১৫ আগস্টের আগে এই গ্রেপ্তারগুলোই স্পষ্ট করে দেয়, কয়েক দশক ধরে যে বৃহৎ রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়ে আসছিল, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে এবার তা অনেকটাই ছোট ও সীমিত পরিসরে নেমে এসেছে।

সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন

১৫ আগস্টকে ঘিরে আরোপিত বিধিনিষেধ একই সঙ্গে জননিরাপত্তা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।  শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ ও স্বাধীনভাবে বক্তব্য রাখার অধিকার একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠিত কর্মসূচি প্রতিহত করছে।

ফলে বিতর্কটি কেবল ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হবে কি না, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। বরং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর একটি দিনে নিষেধাজ্ঞা ও আইন প্রয়োগ কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে ফুল দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড কিংবা রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার কারণে ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ঘটনা বৈধ স্মরণ, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সাংবিধানিক অধিকারের সীমারেখা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন এসেছে, তার আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাবের সঙ্গে এই বিতর্কও আগামী দিনগুলোতে যুক্ত থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মাঠের কর্মসূচির বদলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মরণ

রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবার ১৫ আগস্টের স্মরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

অভিনেতা, লেখক, সাংবাদিক, সাবেক রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের স্মরণে ছবি, বক্তব্য, স্মৃতিচারণ এবং পুরোনো দলিল-নথি প্রকাশ করেছেন।

অভিনেত্রী জয়া আহসান, সাবেক জাতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মর্তুজা, লেখক-সাংবাদিক আনিসুল হক এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলসহ বিভিন্ন খ্যাতিমান ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে।   কবি ও কথাশিল্পী মুজতবা আহমেদ  মুরশেদ তার কবিতার  উধৃতি দিয়ে লিখেন-

“অবশেষে সেই দীর্ঘ পুরষ পঁচাত্তরের কালো ছায়াপথের নিয়তী রেখায়
স্তব্ধ চেয়ে থাকে তার বুকের দিকে – দ্যাখে টকটকে লাল এক সুবিশাল বুক !
চেয়ে দ্যাখে বিশ্বাসঘাতক সরিসৃপ বুলেট শ্রাবনের ঘন মেঘেও রক্ত মেখে গ্যাছে।
সেই দীর্ঘ যুবকবাংলাদেশ তখন খুঁজে নেয়
সবুজ মাতৃমৃত্তিকায় আপন ভূবন
বাকী ভালোবাসাটুকু অঙ্গে মেখে।”

গত দুই বছরের তুলনায় এবার অনলাইনে বঙ্গবন্ধুর স্মরণে অংশ নেওয়া পরিচিত ব্যক্তির সংখ্যা বেশি ছিল কোটি কোটি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিসর সীমিত হলেও ডিজিটাল পরিসরে ১৫ আগস্টকে ঘিরে স্মরণ ও মতপ্রকাশের সুযোগ অনেকটাই সক্রিয় রয়েছে।

খাবার বিতরণ, আলোচনা ও বিকল্প কর্মসূচি

আগের মতো বড় রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি না থাকায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন নিজেদের উদ্যোগে ছোট পরিসরে ১৫ আগস্ট পালন করেছে।

কোথাও খাবার বিতরণ, কোথাও ব্যক্তিগতভাবে স্মরণ, আবার কোথাও আলোচনা সভা ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বড় রাজনৈতিক সমাবেশ ও মিছিলের পরিবর্তে এসব কর্মসূচিই এবার ১৫ আগস্ট পালনের বিকল্প মাধ্যম হয়ে ওঠে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুসারী এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকদের জন্য এসব কর্মসূচি ছিল রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ বৃহৎ সমাবেশের বাইরে থেকে দিনটি স্মরণ করার একটি সীমিত সুযোগ।

সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ১৫ আগস্ট

২০২৬ সালের ১৫ আগস্টের চিত্র গত কয়েক দশকের তুলনায় ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

একসময় দিনটি ছিল রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত একটি জাতীয় কর্মসূচি। সরকারি আয়োজনে শোকের আবহ, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া ও আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে সারাদেশ মুখর থাকত।

এবার সেই রাষ্ট্রীয় কাঠামো অনুপস্থিত। তার পরিবর্তে ছিল কঠোর নিরাপত্তা, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে প্রবেশে বিধিনিষেধ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার, ছোট পরিসরের স্মরণসভা, খাবার বিতরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক স্মরণ।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সরকার ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বাতিল করে। ২০২৬ সালের মার্চে জারি করা একটি সরকারি পরিপত্রেও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। একই সঙ্গে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বড় ধরনের সমাবেশ ও মিছিল সাধারণভাবে এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে উপযুক্ত পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে সেমিনার ও আলোচনা সভার সুযোগ রাখা হয়।

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড: নিহত হন বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের অধিকাংশ সদস্য

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে ঢাকায় একদল সেনা কর্মকর্তা সামরিক অভ্যুত্থান শুরু করেন।

ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় নিহত হন তার স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল এবং তার ছোট ভাই শেখ আবু নাসের।

বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তায় ছুটে আসা কর্নেল জামিলও নিহত হন। এছাড়া এসবি কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান এবং সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হকও ওই ঘটনায় নিহত হন।

বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে ও যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মণির বাসভবনেও হামলা চালানো হয়। সেখানে মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি নিহত হন।

বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসভবনেও হামলা হয়। সেখানে সেরনিয়াবাত, তার মেয়ে বেবি, ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং আত্মীয় রেন্টু খান নিহত হন।

সে সময় দেশের বাইরে থাকায় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে যান।

রাজনৈতিক লড়াই এখনো গভীর

১৫ আগস্টের এবারের পালনের ধরন বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্মৃতির গভীর বিভাজনকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুসারীদের কাছে ১৫ আগস্ট এখনো দেশের প্রতিষ্ঠাতা রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের স্মরণ ও শোকের দিন। অন্যদিকে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গড়ে ওঠা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দিনটি আর রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে স্বীকৃত নয়।

তবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রত্যাহার করলেই ১৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব মুছে যায়নি। বরং ধানমন্ডি ৩২ নম্বরকে ঘিরে গতকালের কঠোর নিরাপত্তা এবং শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ঘটনা দেখিয়েছে, পাঁচ দশকের বেশি সময় পরও দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনে কতটা স্পর্শকাতর।

১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ডের উত্তরাধিকার, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ভূমিকা এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার ঐতিহাসিক সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও এখন ১৫ আগস্টের স্মৃতির সঙ্গে নতুন মাত্রায় যুক্ত হয়েছে।

ফলে ২০২৬ সালের ১৫ আগস্ট কেবল একটি ঐতিহাসিক হত্যাকাণ্ডের বার্ষিকী হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা, রাজনৈতিক স্মৃতির সংঘাত, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রশ্ন এবং মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক অধিকারের সীমারেখা নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য

Scroll to Top