মাদারীপুর: মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি মহিলা মাদ্রাসায় টেনিস বলসদৃশ বস্তু নিয়ে খেলতে গিয়ে বিস্ফোরণে চার ছাত্রী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে আবিদা আক্তার নামে এক ছাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিস্ফোরিত বস্তুটি একটি হাতবোমা। সেটি কীভাবে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এলো, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
শনিবার সকালে কালকিনি পৌরসভার গোপালপুর দারুসসুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। প্রতিদিনের মতো সকালে ছাত্রীরা মাদ্রাসায় আসার সময় টেনিস বলের মতো দেখতে বস্তুটি কয়েকজনের নজরে পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ইমন সরদারের বসতঘরের সামনে বস্তুটি পাওয়া যায়। সেটি যে বিস্ফোরক হতে পারে, তা বুঝতে না পেরে কয়েকজন ছাত্রী টেনিস বল ভেবে সেটি নিয়ে খেলতে শুরু করে। একপর্যায়ে বস্তুটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।
বিস্ফোরণে চার ছাত্রী আহত হয়। বিকট শব্দে মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহত ছাত্রীদের উদ্ধার করে মাদারীপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবিদা আক্তারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। প্রাথমিকভাবে তার আঘাতের ধরন ও বিস্তারিত অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হয়নি। আহত অন্য তিন ছাত্রীর নাম ও তাদের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিতও তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর কালকিনি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। বিস্ফোরকসদৃশ বস্তুটি কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পৌঁছেছে, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, “বস্তুটি কীভাবে এবং কোথা থেকে সেখানে এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ ছাড়াও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে।
ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।”
প্রাথমিক তদন্তের সময় পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। বিস্ফোরকটি সেখানে কে বা কারা রেখে গেছে, সে বিষয়েও কোনো ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করার কথা জানায়নি পুলিশ।

মন্তব্য