শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬ | São Paulo |
| São Paulo
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

শোকাবহ ১৫ আগস্ট, আজ জাতীয় শোক দিবস

অন্যান্য | ৫২ মিনিট আগে

শোকাবহ ১৫ আগস্ট, আজ জাতীয় শোক দিবস

- ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন

ঢাকা, ১৫ আগস্ট। বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম প্রয়াণ দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়; রচিত হয় ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার এবং নিকটাত্মীয়সহ ২৬ জনকে ওই রাতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।

১৫ আগস্ট নিহত হন যারা১৫ আগস্ট নিহত হন যারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে ধানমন্ডির বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে হত্যা করা হয় তার সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসেরকে। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তার জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনা সদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককেও হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর ভাগনে যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাকে, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় হামলা করে তাকে ও তার কন্যা বেবী, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় রেন্টু খানকে হত্যা করা হয়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রথম এই দিনটিকে শোক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এলে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। তবে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবারও ১৫ আগস্টকে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।

জুলাই আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ায়ী লীগ সরকারের পতনের পর ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার। শোক দিবসে প্রতি বছর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে, টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে ও বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের নিহতদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মী এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মিলাদসহ বিশেষ প্রার্থনা ও কাঙালিভোজের আয়োজন করা হতো।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ইউনুস সরকারের মদদে ৩২ নম্বরের বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় উগ্রবাদীরা। বন্ধ করা হয় শোক জানানোর কর্মসূচি।

ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ি ভেঙে দেওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সেখানে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ হারায়। হাসিনা-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের পর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এখন পর্যন্ত ৩২ নম্বরের বাড়িটি ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে।

গত বছর ১৪ আগস্ট আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শোক জানানো হয়েছিল। এ বছরও আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শোক জানানো হয়েছে। তবে গতবারের তুলনায় ১৫ আগস্ট উপলক্ষে ব্যানার ফেস্টুনের সংখ্যা ছিল অনেক বেশী। উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন।

মন্তব্য

Scroll to Top