মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | Columbus |
| Columbus
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

আশুলিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় তিন নারী খুন

- ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন

ঢাকার অদূরে সাভারের আশুলিয়ায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি ঘটনায় তিন নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের একজনকে তাঁর স্বামী ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্য দুজনের মরদেহ পাওয়া গেছে একটি ভাড়া বাসা ও নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে।

তিনটি ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ঘটনায় নিহত নারীর স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। অন্য দুই নারীর মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম পৃথক তিনটি ঘটনায় নারীদের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ

সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার হাজি খালেকের বাড়িতে পারিবারিক কলহের জেরে আঁখি আক্তার (২৪) নামের এক নারীকে তাঁর স্বামী জাহিদ হাসান (২৭) ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহত আঁখি শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার ঘাগড়া কবিরাজপাড়া গ্রামের আবেদ আলীর মেয়ে। তাঁর স্বামী জাহিদ একই জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার সিটপাড়া গ্রামের তাইজুদ্দিনের ছেলে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দাম্পত্য কলহ ও স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে স্বামীর সন্দেহ থেকে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর পুলিশ ওই বাড়ির একটি কক্ষের বিছানা থেকে আঁখির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় অভিযুক্ত স্বামী জাহিদ হাসানকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ

এর আগে বুধবার রাতে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কোলতাসুতি মরিচকাটা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে রোকসানা বেগম (৪০) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত রোকসানার স্বামী মকবুল হোসেন দুবাইপ্রবাসী।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোকসানা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রায় দুই মাস ধরে নির্মাণাধীন ভবনটির তৃতীয় তলায় বসবাস করছিলেন। এর আগে তাঁরা গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দক্ষিণ পাকুল্লা এলাকায় থাকতেন।

বুধবার সন্ধ্যায় ভবনের ছাদে থাকা পানির ট্যাংক দেখতে যান রোকসানা। দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি নিচে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর খোঁজ করতে থাকেন।

একপর্যায়ে ছাদে গিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনেরা।

খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

মরদেহ উদ্ধারের সময় রোকসানার শরীরে পোশাক ছিল না বা আংশিকভাবে পোশাকবিহীন অবস্থায় ছিলেন বলে পুলিশের বর্ণনায় উঠে এসেছে।

মরদেহ উদ্ধারকারী আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর আমিন জানান, রোকসানার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের গভীর ক্ষত পাওয়া গেছে।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির অভিযোগ, আর্থিক বিরোধ এবং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বসহ কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসবের কোনোটিকে হত্যার নিশ্চিত কারণ হিসেবে দেখছে না পুলিশ।

ভাড়া বাসায় পোশাকশ্রমিকের মরদেহ

অন্যদিকে বুধবার বিকেলে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের পাগলা বাজারসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে তানিয়া খাতুন নামের এক পোশাকশ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত তানিয়া সাতক্ষীরা জেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে।

পুলিশ জানিয়েছে, তানিয়া পলমল গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি ওই ভাড়া বাসায় একাই বসবাস করছিলেন।

বুধবার বিকেলে বাসার একটি কক্ষের বিছানায় তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।

পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তানিয়ার গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা।

তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

তিন ঘটনায় পুলিশের পৃথক তদন্ত

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, পৃথক তিনটি ঘটনায় উদ্ধার করা নারীদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় আঁখি আক্তারকে হত্যার ঘটনায় তাঁর স্বামীকে আটক করা হয়েছে।

অন্য দুই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি ঘটনাই পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে একই থানা এলাকায় তিন নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য

Scroll to Top