বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ | Boydton |
| Boydton
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা কংগ্রেসম্যান মিক্সের

- ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন

মার্কিন কংগ্রেসের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির র‌্যাঙ্কিং মেম্বার কংগ্রেসম্যান (ডেমোক্রেট) গ্রেগরি মিক্স বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, আইনের শাসন পুরোপুরি কার্যকর করা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমি চাই বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক।”

বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডেমোক্রেট দলীয় এই প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান বলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্রেটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে—এই সম্ভাবনা বা প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

“এরপর যদি আমি এই কমিটিতে আবারও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাই, তাহলে আমি বাংলাদেশ সফরে গিয়ে সরেজমিনে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে পারব,” তিনি যোগ করেন।

এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসম্যান মিক্স গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর তাঁরসহ পাঁচ কংগ্রেসম্যানের যৌথ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঠানোর কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ওই চিঠিতে বাংলাদেশের সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ তৈরির তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে রাষ্ট্রযন্ত্র যে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে, তা দৃশ্যমান করার কথাও বলা হয়েছিল।

তিনি বলেন, “আমাদের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে আমরা বলেছিলাম, যদি সরকার রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে এবং আবার ত্রুটিপূর্ণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চালু করে, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে মনে করি না।”

এ সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওকে হোয়াইট হাউসসহ এয়ার ফোর্স ওয়ানে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসম্যান মিক্স ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আমেরিকাতেও গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভিন্নমতাবলম্বীদের বহুমুখী নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া কিংবা গ্রিন কার্ড বাতিল করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা স্তব্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে—যা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ ধরনের পরিস্থিতির অবসানে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্রেটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য বাংলাদেশি-আমেরিকানদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

“তাহলে আমরা যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেখানেই অন্যায়-অবিচার, দমন-পীড়ন চলছে, তার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে,” তিনি বলেন।

নিউইয়র্কের কুইন্স কাউন্টি ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান গ্রেগরি মিক্স বলেন, “আমি চাই বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক। ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যানের প্যাডে একটি চিঠি পেলে বাংলাদেশের সরকার অবশ্যই তার গুরুত্ব দিতে কুণ্ঠাবোধ করবে না। আমি কথা দিচ্ছি, চেয়ারম্যান হিসেবে আবারও বাংলাদেশ সফরে যাব।”

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সহায়তায় আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া। সঞ্চালনা করেন কুইন্স ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার ড. দীলিপ নাথ।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তব্য দেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন।

তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ভিন্নমত পোষণকারীরা নিষ্ঠুর নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হচ্ছেন।

তারা বলেন, আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। তাদের অভিযোগ, ইউনূস সরকারের আমলে গোটা বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হয়েছিল, যা বর্তমান সরকারের সময়েও অব্যাহত রয়েছে।

উভয় বক্তা বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে অবৈধভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা হয়েছে এবং ভিন্নমতের শত শত গণমাধ্যমকর্মীকে গ্রেপ্তার, হামলা-মামলা ও বরখাস্তের শিকার হতে হয়েছে।

তারা বলেন, বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনদের স্বৈরাচারী আচরণে গোটা জাতি আজ অতিষ্ঠ। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য অবিলম্বে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি কংগ্রেসম্যান মিক্সের সামনে উত্থাপন করা হয়। এছাড়া কথিত হত্যা মামলায় আটক সাংবাদিকসহ সব রাজবন্দির মুক্তির লক্ষ্যে কংগ্রেসের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

শুরুতে মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশ ও প্রবাসীদের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে পরিচিত এই কংগ্রেসম্যানকে বিপুল করতালির মধ্যে ‘উত্তরীয়’ পরিয়ে দেন অনুষ্ঠানের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া।

মতবিনিময় সভাটির সহ-আয়োজক ছিল যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ, সন্দ্বীপ পৌরসভা কল্যাণ সমিতি এবং হক মেডিক্যাল অফিস।

সমাবেশের মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, আমিনুল ইসলাম আমিন ও নজরুল ইসলাম বাবু, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল হক এবং ব্রুকলিনের বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টারের সভাপতি আলহাজ আবুল হাশেম।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লেখক, কলামিস্ট ও সম্পাদক নঈম নিজাম, প্রবীণ ডেমোক্রেটিক পার্টি নেতা মোর্শেদ আলম, একাত্তর জেনোসাইড ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাসুদুল হাসান, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক প্রেস মিনিস্টার সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন সবুজ, বিশ্ববাংলা টোয়েন্টিফোর টিভির সিইও আলিম খান আকাশ, সাংবাদিক সুলতানা রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক লাবলু আনসার, সাপ্তাহিক জাগো প্রহরীর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ড. মাহাব্বুর রহমান টুকু, সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সিরাজুল মাওলা, সংগঠনটির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, সন্দ্বীপ পৌরসভা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. জাফরউল্লাহ, সন্দ্বীপ এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটির সভাপতি মোশারফ হোসেন, সেক্রেটারি আব্দুল হামিদ ও কোষাধ্যক্ষ আহসান উল্লাহ সাকী, কমিউনিটি লিডার মোবাশ্বের হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদির মিয়া এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যবসায়ী সরাফ সরকার।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সমাজসংগঠক সাখাওয়াত আলী, ব্যবসায়ী ও সমাজসংগঠক ইফজাল চৌধুরী, চট্টগ্রাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, বাউরিয়া জনকল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা আবুল কাশেম, কমিউনিটি লিডার আব্দুল জলিল, আফসার মোহাম্মদ, আবু তাহের এম রহমান, ইয়াসিন আরাফাত বাপ্পি, রাজনীতিক বাকের ভূঁইয়া, ইমদাদ চৌধুরী প্রমুখ। তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি কামাল হোসেন মিঠু।

সমাপনী বক্তব্যে উপস্থিত সবাইকে গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া প্রিয় মাতৃভূমিকে অপশাসনের কবল থেকে মুক্ত করতে সব বিভেদ ভুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সবাইকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে।

মন্তব্য

Scroll to Top