মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Columbus |
| Columbus
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

সমাজকর্মী ফরহাদকে পুড়িয়ে হত্যা!

- ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় একজন সমাজকর্মীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাতে অজ্ঞাত ঘাতকেরা পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় স্থানীয় সমাজকর্মী ফরহাদ হোসেনের (৩৫) শরীরে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের জলাশয়ে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত ফরহাদ মুক্তাগাছা পৌর শহরের মধ্যহিস্যা এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন সবজি বিক্রেতা। তবে তিনি বেশি পরিচিত তাঁর সমাজকর্মের জন্য। এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন তিনি। বেকারদের কর্মসংস্থানের দাবিসহ বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনেও যুক্ত ছিলেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন ফরহাদ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত ১০টার দিকে ফরহাদ বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় পেছন থেকে দুর্বৃত্তরা তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

মুহূর্তের মধ্যে তাঁর শরীরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে প্রাণ বাঁচাতে পাশের একটি জলাশয়ে ঝাঁপ দেন ফরহাদ।

তাঁর আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাঁকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ফরহাদের মৃত্যু হয়।

মাদক কারবারিদের প্রতি সন্দেহ

ফরহাদের পরিবারের ধারণা, তাঁর মাদকবিরোধী অবস্থান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে তৈরি হওয়া বিরোধ থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। এর পেছনে মাদক কারবারিদের হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তাঁরা।

ফরহাদের বাবা আব্দুস সাত্তার বলেন, “আমার ছেলে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল এবং বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন করত। এসব কারণে এলাকার একটি কুচক্রী মহলের সঙ্গে তার শত্রুতা তৈরি হয়। তারাই আমার ছেলেকে এভাবে পুড়িয়ে মেরেছে।”

কারা ফরহাদের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ফরহাদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মন্তব্য