বরিশালে দৈনিক সমকালের সাবেক ব্যুরোপ্রধান সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির (৫৭) মরদেহ পত্রিকাটির কার্যালয় থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর পেয়ারারোড এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় সমকাল কার্যালয়ের ভেতরে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়।
বরিশাল মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে সমকাল কার্যালয়ের ভেতরে পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
একই ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় সমকাল ছাড়াও যুগান্তর ও আলোকিত বাংলাদেশসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় রয়েছে।
পুলক চ্যাটার্জি দীর্ঘদিন সমকালের বরিশাল ব্যুরোপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের দিকে তাঁকে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি কর্মহীন ছিলেন।
পুলকের স্ত্রী নীলোৎপলা মুখার্জি সাংবাদিকদের বলেন, চাকরি হারানোর পর থেকে তাঁর স্বামী হতাশায় ভুগছিলেন।
তিনি বলেন, “চাকরি চলে যাওয়ার পর থেকে তিনি হতাশায় ভুগছিলেন। কিন্তু এ কারণে তিনি নিজের জীবন শেষ করে দেবেন, এমনটা আমরা কেউ ভাবিনি।”
পুলকের ভাই ও ভূমি প্রশাসনের কর্মকর্তা দীপক চ্যাটার্জিও জানান, চাকরি না থাকায় তাঁর ভাই কিছুটা হতাশ ছিলেন। তাঁর মতে, মৃত্যুর পেছনে সেটিও একটি কারণ হয়ে থাকতে পারে।
সমকালের বর্তমান বরিশাল ব্যুরোপ্রধান সুমন চৌধুরী জানান, পুলক চ্যাটার্জির কাছে কার্যালয়ের একটি অতিরিক্ত চাবি ছিল। তিনি মাঝেমধ্যে সেখানে এসে সময় কাটাতেন।
একই ভবনের তৃতীয় তলায় যুগান্তর কার্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক এসএম পলাশ জানান, পুলক মাঝেমধ্যে ওই কার্যালয়েও আসতেন, বসতেন এবং পত্রিকা পড়তেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলকের স্ত্রী ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে খোঁজ নিতে বলেন। এরপর সুমন চৌধুরী পুলকের সন্ধানে এসএম পলাশের সহায়তা চান।
শুক্রবার হওয়ায় কার্যালয়ের সহকারী সেখানে ছিলেন না। সুমন চৌধুরী সমকাল কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখেন, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। পরে ফাঁক দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে পুলক চ্যাটার্জিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পুলক চ্যাটার্জি স্ত্রী ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া তথ্যে পুলিশ তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

মন্তব্য