মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Columbus |
| Columbus
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

দেশে প্রায় প্রতিদিনই একজন করে বন্দির মৃত্যু হচ্ছে

- ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ ছিলেন শামীকুল ইসলাম সরকার। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরিবারের দাবি, ছয়বার হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নতুন মামলায় বারবার গ্রেপ্তার দেখানোয় তার মুক্তি আটকে যায়।

একপর্যায়ে জামিনে মুক্তি পেলেও আরেক মামলায় তাকে আবার গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই দফায় কারাগারে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফেরা হয়নি তার।

গাইবান্ধা জেলা কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ৬০ বছর বয়সী শামীকুলকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যু হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের কারাগারগুলোতে যে শত শত বন্দির মৃত্যু হয়েছে, শামীকুল তাদের একজন। মৃতদের মধ্যে রাজনৈতিক বন্দির পাশাপাশি বিচারাধীন ও দণ্ডিত আসামি, বয়স্ক বন্দি এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিও রয়েছেন।

এর মধ্যেই চলতি সেপ্টেম্বরে মাত্র ১৩ দিনে ১১ বন্দির মৃত্যু দেশের কারাব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে—গড়ে প্রায় প্রতিদিন একজনের মৃত্যু।

২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা অন্তত ১১ বন্দির মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের নয়জন মারা গেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

১৩ দিনে ১১ বন্দির মৃত্যু

মৃত্যুর এই ধারার শুরু ২ সেপ্টেম্বর। ওই দিন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান মিরসরাইয়ের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. নুরুল ইসলাম, ৫৫।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বুকে ব্যথা অনুভব করার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়।

পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বিচারাধীন বন্দি মো. বাবুল হোসেন, ৪৫, অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। তিনি মাদক মামলার আসামি ছিলেন।

৬ সেপ্টেম্বর একই হাসপাতালে অন্তত চার বন্দির মৃত্যু হয়। বিচারাধীন বন্দি আবুল বাশার, ৫৮, ও আবদুল কাইয়ুম, ৬২, কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। ২৮ আগস্ট থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দণ্ডিত বন্দি মো. শাহাদাত হোসেন লিটনও ওই দিন মারা যান।

ওই রাতেই হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আজহারুল ইসলাম, ৫১, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। ৭ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতের কিছু পর মারা যান আলী আকবর মণ্ডল, ৬৭।

এর ছয় দিন পর ১৩ সেপ্টেম্বর মারা যান আবদুল বারেক, ৭০, ও আবদুল মাবুদ, ৫৮। পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর মারা যান রফিকুল ইসলাম, ৫৪, ও আবদুর রহিম, ৬০।

এসব মৃত্যুর অনেক ক্ষেত্রেই প্রকাশিত তথ্যে শুধু বলা হয়েছে, বন্দি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কয়েকটি ঘটনায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদন সাধারণত প্রকাশ্যে আসেনি।

কারাগারে শত শত মৃত্যু

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ২৭০ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মারা গেছেন আরও ১২৯ জন। অর্থাৎ মাত্র ১৮ মাসে ৩৯৯ বন্দির মৃত্যু হয়েছে।

এই হিসাবের মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং ২০২৬ সালের জুনের পরের মৃত্যুগুলো নেই। চলতি সেপ্টেম্বরে মারা যাওয়া ১১ জনও এর বাইরে। ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা ৩৯৯-এর চেয়ে বেশি।

কারা অধিদপ্তরের পৃথক হিসাবে ২০২৪ সালের পুরো বছরে ২৬১ বন্দির মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে ৫ আগস্টের আগের সাত মাসের বেশি সময়ের মৃত্যুও রয়েছে। তাই পুরো সংখ্যাটি আগস্ট-পরবর্তী হিসাবের সঙ্গে যোগ করা যায় না।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পর্যবেক্ষণে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম। আইন ও সালিশ কেন্দ্র—আসক ২০২৫ সালে ১০৭ এবং ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ৬১ বন্দির মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি—এইচআরএসএস চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৫৮ জনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে।

ব্যবধানটি লক্ষণীয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কারা কর্তৃপক্ষ যেখানে ১২৯ বন্দির মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে, সেখানে আসকের গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণে পাওয়া গেছে মাত্র ৬১টি মৃত্যু।

কারা অধিদপ্তরের হিসাবে ওই ছয় মাসে মারা যাওয়া ১২৯ বন্দির মধ্যে ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই। সরকারি হিসাবে শুধু জানুয়ারিতে ৫৫ এবং ফেব্রুয়ারিতে ৪২ বন্দির মৃত্যু হয়।

Nurul Majid Humayun
কারাবন্দি অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের হাতে হাতকড়া পরানো অবস্থার ছবি তার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে মারা যান প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী। ছবিটি ঘিরে অসুস্থ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বন্দির প্রতি আচরণ এবং মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে

বন্দি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মৃত্যু

নথিভুক্ত মৃত্যুগুলোর উল্লেখযোগ্য একটি অংশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বন্দি।

দ্য ডেইলি স্টারের পর্যালোচনায় ২০২৫ সালে মারা যাওয়া ২৭০ বন্দির মধ্যে আওয়ামী লীগের ২১ নেতা ও কর্মীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা কেউ দন্ডিত অপরাধী নয়। অন্যদিকে এইচআরএসএস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে কারাগারে মারা যাওয়া ৩৯ জনের মধ্যে ১২ জন ছিলেন আওয়ামী লীগ বা এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী।

আওয়ামী লীগ ২০২৫ সালের মে মাসে দাবি করে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দলটির ২১ নেতা-কর্মীর হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামও তাদের বাংলাদেশবিষয়ক প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করে। সংস্থাটি ২০২৪ সালের শেষ দিকে বগুড়া কারাগারে আওয়ামী লীগের চার নেতার মৃত্যুসহ দলটির সদস্যদের হেফাজতে মৃত্যুর বিভিন্ন ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত আগস্টে জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টের পর আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা, কর্মী ও সমর্থককে আটক করা হয়েছে এবং শত শত ব্যক্তি কোনো অপরাধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত না হয়েও কারাগারে রয়েছেন। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের অন্তত ১০ জন পদধারী নেতা কারাগারে মারা গেছেন। পরিবার ও আইনজীবীদের পক্ষ থেকে অনেক ক্ষেত্রে জামিন ও যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পরও নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বন্দিদের কারাগারে রাখার ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। শামীকুল ইসলাম সরকারের পরিবারও তার ক্ষেত্রে একই ধরনের অভিযোগ করেছে।

তবে কারাগারে মৃতদের মধ্যে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই—এমন বিপুলসংখ্যক বন্দিও রয়েছেন।

হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু

কারাগারে মৃত্যুর পাশাপাশি ২০২৪ সালের আগস্টের পর রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর অভিযোগও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন অধিকার জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নির্যাতনের কারণে হেফাজতে ২৯ জনের মৃত্যুর অভিযোগ তারা নথিভুক্ত করেছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ জুন পর্যন্ত বর্তমান সরকারের সময়ে এমন আরও দুজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে সংগঠনটি।

অন্যদিকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, হেফাজত বা নির্যাতনের ঘটনায় অন্তত ৬০ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে এইচআরএসএস। এর মধ্যে ২২ জনের মৃত্যু নির্যাতনে এবং ১২ জনের মৃত্যু পুলিশ হেফাজতে হয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামও বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে হেফাজতে বৈদ্যুতিক শক, গুরুতর শারীরিক নির্যাতন এবং জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে।

বর্তমান সরকারের সময়েও এমন অভিযোগ উঠেছে। গত জুনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত, ২৬, ফরিদপুরে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে মারা যান। পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এসব ঘটনা ২০১৩ সালে প্রণীত নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দি

মৃত্যুর ঘটনাগুলো এমন সময়ে ঘটছে, যখন দেশের কারাগারগুলো তীব্র অতিরিক্ত বন্দির চাপ সামলাচ্ছে।

আগস্টে প্রকাশিত কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৭৫টি কারাগারের মোট ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৮৬ জন, অথচ সেখানে বন্দি ছিলেন ৯৮ হাজার ২৩৩ জন। তাদের মধ্যে ৬৬ হাজার ৮৩৫ জন বিচারাধীন এবং ৩১ হাজার ২৩৭ জন দণ্ডিত।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ধারণক্ষমতা ৪ হাজার ৫৯০ জন হলেও সেখানে বন্দি ছিলেন ১৩ হাজার ৯৫৮ জন—ধারণক্ষমতার তিন গুণের বেশি।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপর দেশের কারাগারে বন্দির সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৯ হাজার। দুই বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৯৮ হাজার ছাড়িয়েছে। আগস্টে মোট বন্দির দুই-তৃতীয়াংশের বেশিই ছিলেন বিচারাধীন।

চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্সের তীব্র সংকট

বন্দির সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি চিকিৎসাসেবা।

কারাগারে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ প্রায় ১৫০টি হলেও পূর্ণকালীন চিকিৎসক রয়েছেন হাতে গোনা কয়েকজন। বহু কারাগার স্থানীয় সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সংযুক্ত চিকিৎসকের ওপর নির্ভরশীল।

প্রায় ১৪ হাজার বন্দির ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থায়ী কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। সংযুক্ত দুজন চিকিৎসক দিয়ে সেখানে সেবা দেওয়া হচ্ছিল।

জরুরি রোগী পরিবহনের ব্যবস্থাও সংকটাপন্ন। আগস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৫৪টি কারাগারের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স নেই। ফলে গুরুতর অসুস্থ বন্দিদের কখনো কখনো কারাগারের সাধারণ যানবাহনে হাসপাতালে নিতে হয়।

সরকারি মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও এই সংকটের প্রতিফলন রয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মারা যাওয়া ১২৯ বন্দির মধ্যে ৭৪ জন হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান। ২০২৫ সালে ২৭০ মৃত্যুর মধ্যে ১১১টি ঘটে হাসপাতালে নেওয়ার পথে। ২০২৪ সালে এমন মৃত্যু ছিল ১২০টি।

এসব ঘটনার বেশ কয়েকটিতে চিকিৎসায় বিলম্ব, পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়া, আঘাত বা নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন স্বজন ও মানবাধিকারকর্মীরা। অথচ বিস্তারিত চিকিৎসা নথি, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন কিংবা স্বাধীন তদন্তের ফল অনেক ক্ষেত্রেই জনসমক্ষে আসে না।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ

জাতিসংঘের বন্দিদের প্রতি আচরণবিষয়ক ন্যূনতম মানদণ্ড, যা নেলসন ম্যান্ডেলা রুলস নামে পরিচিত, বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর দিয়েছে এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার কথা বলেছে।

বাংলাদেশে বন্দিদের প্রতি আচরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগও বেড়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বন্দিদের দীর্ঘদিন বিচারপূর্ব আটক, বারবার জামিন না পাওয়া এবং চিকিৎসাসেবা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর বিভিন্ন অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে।

পরিসংখ্যান পরিস্থিতির ব্যাপকতা তুলে ধরে—শুধু ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই সরকারি হিসাবে কারাগারে ৩৯৯ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ও পরের মৃত্যুগুলো এই সংখ্যার বাইরে। আর চলতি সেপ্টেম্বরেই মাত্র ১৩ দিনে মারা গেছেন ১১ বন্দি।

মন্তব্য

Scroll to Top