বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ | Columbus |
| Columbus
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

কলকাতার হোটেলে আগুনে ৯ বাংলাদেশি নিহত

- ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন

কলকাতা: কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার কাছে একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক শিশুসহ ৯ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

বুধবার ভোরে মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে আগুনের সূত্রপাত হয়। কলকাতা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও এক শিশু। তারা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়ে ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন। আটজন আহত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

আগুন লাগার পর দ্রুত পুরো ভবনে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এতে অনেকের পক্ষে বের হয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে এবং ওপরের তলায় আটকে পড়া লোকজনের কাছে পৌঁছাতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদেরও বেগ পেতে হয়।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। আহতদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ভবনের ভেতরে ঘন ধোঁয়ার কারণে সিঁড়ি দিয়ে ওপরের দিকে ওঠা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল।

তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার ছিল ভেতরে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধার করা এবং আগুনের কারণ নির্ধারণ করা। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এখন কুলিংয়ের কাজ চলছে।”

চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন নিহতরা

নিহত ৯ বাংলাদেশি চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শিখা ইন মির্জা গালিব স্ট্রিটে নিউমার্কেটের কাছে অবস্থিত। এলাকাটি বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের কাছে পরিচিত। এখানে বহু হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকান এবং বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে যাতায়াতের সুবিধা রয়েছে।

কলকাতা পুলিশ ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা নিহতদের বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে নিহতদের নাম বা বাংলাদেশের কোন জেলার বাসিন্দা ছিলেন, তা জানানো হয়নি। নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করা নিহতদের পূর্ণাঙ্গ নামের তালিকাও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

পশ্চিমবঙ্গের ফায়ার সার্ভিসমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, নিহত ও আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

পিটিআইকে তিনি বলেন, “আমরা হতাহতদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। ভবনের ভেতরের পরিস্থিতি ভয়াবহ।”

তিনি আরও জানান, একই ভবনে একাধিক হোটেল পরিচালিত হচ্ছিল এবং সেখানকার পরিস্থিতি দেখে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্তে

আগুনের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রাথমিকভাবে একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে বিস্ফোরণ অথবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ফরেনসিক তদন্ত ছাড়া প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কর্তৃপক্ষ হোটেলটি বাধ্যতামূলক অগ্নিনিরাপত্তা ও ভবন নির্মাণ বিধি মেনে পরিচালিত হচ্ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে।

ফায়ার সার্ভিসমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ভবনের মৌলিক নিরাপত্তা ও নির্মাণবিধি মানার ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখা গেছে। হোটেল পরিচালনায়ও বেশ কিছু অনিয়ম থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভারতীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভবনের সংকীর্ণ বের হওয়ার পথ এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের অভাবের কথাও উঠে এসেছে। এসব কারণে আগুনের সময় দ্রুত বেরিয়ে আসা আরও কঠিন হয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ভবনের মালিক পলাতক। নিউমার্কেট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাকে খুঁজে বের করতে তার বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছে।

তিন দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় প্রাণঘাতী হোটেল আগুন

কলকাতার এই অগ্নিকাণ্ড ছিল তিন দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় প্রাণঘাতী হোটেল আগুন।

সোমবার বীরভূম জেলার তারাপীঠ মন্দিরের কাছে হোটেল বিদেশিনীতে আগুন লাগে। প্রাথমিকভাবে ওই ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

ভোরে নিচতলায় আগুনের সূত্রপাত হয়, যখন অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হয়েছিল।

তারাপীঠের ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ওই এলাকার হোটেলগুলোতে অভিযান শুরু করে। অগ্নিনিরাপত্তাসহ বাধ্যতামূলক নিরাপত্তাবিধি না মানায় অন্তত ১৫টি হোটেল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তিন দিনের ব্যবধানে পরপর দুটি প্রাণঘাতী হোটেল অগ্নিকাণ্ডের পর পশ্চিমবঙ্গের আবাসিক হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

মন্তব্য

Scroll to Top