মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Columbus |
| Columbus
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

‘১৭ বছরে একটি কূপও খনন হয়নি’: জ্বালানি খাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন দাবি কতটা সঠিক?

- ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন

ঢাকা, ১৬ আগস্ট — দেশে চলমান গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের “আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরে একটি কূপও খনন হয়নি”—এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, জ্বালানি খাতের বিভিন্ন সরকারি ও খাতভিত্তিক তথ্যের সঙ্গে বক্তব্যটির সরাসরি সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উপলব্ধ তথ্য বলছে, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার সময়ে দেশে একাধিক গ্যাসকূপ খনন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, সিসমিক জরিপ এবং গ্যাস অবকাঠামো সম্প্রসারণের কাজ হয়েছে। ফলে মূল প্রশ্নটি এখন দাঁড়াচ্ছে—“একটি কূপও খনন হয়নি” দাবি কি বাস্তব পরিসংখ্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, নাকি এখানে সময়কাল ও ‘কূপ খনন’-এর সংজ্ঞা নিয়ে ভিন্ন হিসাব ব্যবহার করা হচ্ছে?

প্রথম প্রশ্ন: ১৭ বছর, নাকি ১৫ বছর ৭ মাস?

বিতর্কের শুরুতেই আসে সময়কালের হিসাব।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত টানা ক্ষমতায় ছিল—অর্থাৎ প্রায় ১৫ বছর ৭ মাস। সুতরাং ১৭ বছর সময়কালটি আওয়ামী লীগ সরকারের একক মেয়াদ হিসেবে উপস্থাপন করলে তা সময়ের হিসাবে সঠিক নয়।

তবে বর্তমান সরকারের বক্তব্যে ১৭ বছরের সময়কাল ব্যবহারের পেছনে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক শাসনপর্বের পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে আগের দীর্ঘ সময়ের নীতি ও ব্যবস্থাপনাকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

২০০৯–২০২৪: ১৫৫টি কূপ খননের দলিল

আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছর ৭ মাসের সময়কালের জ্বালানি খাতের তথ্য বিশ্লেষণ করলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানগুলোর একটি হলো ১৫৫টি কূপ খননের অফিসিয়াল রেকর্ড।

উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ওয়ার্কওভার মিলিয়ে মোট ১৫৫টি কূপ খনন করা হয়।

এই সময়কালে ছয়টি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের তথ্যও দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো—

  • সুন্দলপুর
  • শ্রীকাইল
  • রূপগঞ্জ
  • ভোলা নর্থ
  • জকিগঞ্জ
  • ইলিশা

২০১৮ সালে ভোলা নর্থে গ্যাস আবিষ্কার এবং পরবর্তী সময়ে ইলিশায় গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার মতো ঘটনাও দেশের গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমের ধারাবাহিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিভিন্ন সময়ে নতুন কূপ খনন করে পুরোনো গ্যাসক্ষেত্র থেকেও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৩ সালে সিলেটের হরিপুরে একটি নতুন কূপে গ্যাস পাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।

ফলে “একটি কূপও খনন হয়নি”—এমন সর্বাত্মক দাবির সঙ্গে অন্তত কূপ খনন ও অনুসন্ধানের এই তথ্যের স্পষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে।

গ্যাস উৎপাদনও বেড়েছিল

উপস্থাপিত খাতভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সালে দেশে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ছিল প্রায় ১,৭৪৪ MMCFD। পরবর্তী সময়ে তা বেড়ে প্রায় ২,৭৫০ MMCFD-এ উন্নীত হয়।

আরও বিস্তৃত সরবরাহ ব্যবস্থার হিসাব ধরলে মোট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা ৩,১০০ MMCFD-এর বেশি হয়েছে বলেও তথ্যটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ এই সময়কালে শুধু অনুসন্ধান বা কূপ খনন নয়, গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ অবকাঠামোও সম্প্রসারিত হয়েছে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন দেশীয় গ্যাস আবিষ্কার এক বিষয় নয়; আবার গ্যাসের সরবরাহ সক্ষমতা এবং প্রকৃত উৎপাদনও এক নয়। ফলে সংকট বিশ্লেষণে প্রতিটি সংখ্যা কোন শ্রেণির, তা আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

রিগের সক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছিল

২০০৯ সালে দেশে কার্যকর ড্রিলিং রিগের সংকট ছিল বলে জ্বালানি খাতের তথ্যগুলোতে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে একটি পুরোনো রিগ পুনরায় সচল করার পাশাপাশি চারটি নতুন রিগ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এর ফলে দেশীয়ভাবে কূপ খননের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল—এমন তথ্যও পাওয়া যায়।

এখানেও প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ: কোনো সরকারের অনুসন্ধান কার্যক্রমকে মূল্যায়ন করতে হলে শুধু কতটি নতুন গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া গেছে তা নয়, কূপ খননের সক্ষমতা, রিগ, সিসমিক জরিপ এবং অনুসন্ধান অবকাঠামো কতটা বাড়ানো হয়েছিল—সেটিও হিসাবের মধ্যে রাখতে হয়।

অনুসন্ধানে বড় পরিসরের সিসমিক জরিপ

২০০৯–২০২৪ সময়কালে শুধু কূপ খনন নয়, অনুসন্ধানের প্রাথমিক ধাপ হিসেবেও উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে বলে উপস্থাপিত তথ্যে দাবি করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে—

২ডি সিসমিক জরিপ: ৩১,২৮১ লাইন কিলোমিটার

৩ডি সিসমিক জরিপ: ৬,৯৮৬ বর্গকিলোমিটার

সমুদ্রাঞ্চলে মাল্টিক্লায়েন্ট ২ডি সার্ভে: ১২,৬৪২ লাইন কিলোমিটার

সিসমিক জরিপ নিজে গ্যাস উৎপাদন করে না। এটি ভূগর্ভস্থ কাঠামো শনাক্ত করে সম্ভাবনাময় এলাকায় অনুসন্ধান কূপ খননের ভিত্তি তৈরি করে। তাই কূপ খননের সংখ্যা দিয়ে পুরো অনুসন্ধান কার্যক্রমের মূল্যায়ন যেমন অসম্পূর্ণ, তেমনি শুধু সিসমিক জরিপের পরিমাণ দিয়েও অনুসন্ধানের সাফল্য প্রমাণ করা যায় না।

গ্যাসক্ষেত্র ও পাইপলাইন অবকাঠামো সম্প্রসারণ

উপস্থাপিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সালে দেশে সচল গ্যাসক্ষেত্র ছিল ২৩টি, যা ২০২৪ সালে বেড়ে ২৯টিতে দাঁড়ায়।

একই সময়ে গ্যাস পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য ২,১০২ কিলোমিটার থেকে বেড়ে ৩,৬৫৭ কিলোমিটারে উন্নীত হয়।

অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গ্যাস খাতের অবকাঠামোতে বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের একটি ধারাবাহিকতা ছিল।

তবে অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন ধরে রাখা এবং নতুন মজুত আবিষ্কারের সক্ষমতা কতটা টেকসই ছিল—সেটি আলাদা প্রশ্ন।

LNG: সংকটের আরেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়

বর্তমান গ্যাস সংকটের আলোচনায় LNG অবকাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ।

২০০৯ সালে বাংলাদেশে LNG সরবরাহ ব্যবস্থা ছিল না। পরবর্তী সময়ে দেশে LNG আমদানি ও পুনর্গ্যাসীকরণের অবকাঠামো তৈরি হয় এবং প্রায় ১,১০০ MMCFD পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা গড়ে ওঠে।

এখানেই বর্তমান সংকটের সঙ্গে অতীতের জ্বালানি নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র তৈরি হয়।

কারণ, দেশীয় গ্যাসের পাশাপাশি আমদানিনির্ভর LNG বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে কোনো LNG টার্মিনালে যান্ত্রিক বা পরিচালনাগত সমস্যা দেখা দিলে তার প্রভাব জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, LNG অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল বলেই বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে—এমন সরল সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না। বরং প্রশ্ন হলো, দেশীয় অনুসন্ধান, উৎপাদন, LNG আমদানি এবং গ্যাস সঞ্চালন—এই চারটি ব্যবস্থার মধ্যে ভারসাম্য কতটা কার্যকর ছিল।

জ্বালানি তেল ও LPG অবকাঠামোও বেড়েছে

জ্বালানি খাতে পরিবর্তন শুধু গ্যাসে সীমাবদ্ধ ছিল না।

উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেল পরিবহনের পাইপলাইন ২০০৯ সালে যেখানে শূন্য কিলোমিটার ছিল, ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৬২৪ কিলোমিটারে পৌঁছায়।

একই সময়ে LPG সরবরাহের পরিমাণ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ১৪ লাখ মেট্রিক টনের বেশি হয়েছে বলে তথ্যটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব পরিসংখ্যান জ্বালানি খাতে অবকাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।

২০২৪ সালেও কূপ খননের কর্মসূচি চলছিল

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা ছাড়ার সময়ও কূপ খননের একটি কর্মসূচি চলমান ছিল বলে উপস্থাপিত তথ্য থেকে জানা যায়।

২০২৪ সালের আগস্টে ৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি চলমান ছিল। পরিকল্পনা ছিল, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৬১৮ MMCFD অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০২৮ সালের মধ্যে ১০০টি কূপ খননের মাধ্যমে প্রায় ৯৮৫ MMCFD অতিরিক্ত গ্যাস যুক্ত করার লক্ষ্যও ছিল বলে তথ্যটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ধরনের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, কিন্তু তা থেকে “কোনো কূপ খননের উদ্যোগই নেওয়া হয়নি”—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।

২০২২ সালে অনুমোদিত ৪৬ কূপের কর্মসূচি পরবর্তীতে ৫০ কূপে সংশোধিত হওয়ার তথ্যও জ্বালানি খাতের প্রতিবেদনে পাওয়া যায়। একটি খাতভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই কর্মসূচির আওতায় ২০২৫ সালের মধ্যে ৬১৮ MMCFD অতিরিক্ত গ্যাস পাওয়ার লক্ষ্য ছিল।

তাহলে বিতর্কটি আসলে কোথায়?

এখানে মূল বিতর্কটি আওয়ামী লীগ সরকারের জ্বালানি নীতি সফল ছিল কি না—শুধু সেই প্রশ্ন নয়।

বরং প্রশ্ন হলো, “১৭ বছরে একটি কূপও খনন হয়নি”—এই বক্তব্যটি কি আক্ষরিক অর্থে সঠিক?

উপস্থাপিত ১৫৫টি কূপ খননের তথ্য এবং ২০২৩ সালেও নতুন কূপ খনন ও গ্যাস আবিষ্কারের প্রমাণ থাকায় বক্তব্যটির আক্ষরিক সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।

তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য যে, কূপ খনন হয়েছে মানেই অনুসন্ধান ও জ্বালানি নীতি সফল হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তও টানা যায় না।

দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন পরবর্তী সময়ে কমেছে, আমদানিনির্ভরতা বেড়েছে এবং LNG-এর ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে। ফলে বর্তমান সংকটের পেছনে অনুসন্ধানের ঘাটতি, উৎপাদন হ্রাস, আমদানিনির্ভরতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং ব্যবস্থাপনার মতো একাধিক কারণ থাকতে পারে।

বর্তমান সংকটের দায় কি শুধু কূপ খননের ঘাটতিতে?

বর্তমান গ্যাস সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ নিয়ে আরেকটি প্রশ্ন সামনে আসে।

যদি সংকটের একটি বড় কারণ LNG সরবরাহ অবকাঠামোর কারিগরি সমস্যা বা টার্মিনাল-সংক্রান্ত বিঘ্ন হয়, তাহলে কূপ খননের ঘাটতিকে একক কারণ হিসেবে সামনে আনা কতটা যৌক্তিক?

এখানে সময়ের দুটি স্তরকে আলাদা করা জরুরি।

একটি হলো দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা—যেখানে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যটি হলো তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকট—যেখানে LNG টার্মিনাল, পাইপলাইন, সঞ্চালন ব্যবস্থা, আমদানি এবং ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এই দুটি বিষয়কে এক করে দেখলে বর্তমান সংকটের প্রকৃত কারণ নির্ণয় জটিল হয়ে যেতে পারে।

রাজনৈতিক বক্তব্য বনাম পরিসংখ্যান

জ্বালানি খাত নিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত তথ্যের নির্ভুলতা।

একদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কূপ খনন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, সিসমিক জরিপ এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিসংখ্যান রয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে গত ১৭ বছরে কোনো কূপ খনন না হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

দুই বক্তব্য একই সঙ্গে সত্য হতে পারে না—যদি ‘কূপ’ বলতে সাধারণভাবে গ্যাস অনুসন্ধান বা উন্নয়ন কূপ বোঝানো হয়।

তবে কোন ধরনের কূপ—অনুসন্ধান কূপ, উন্নয়ন কূপ, ওয়ার্কওভার নাকি উৎপাদন কূপ—তা নির্দিষ্ট না করলে বিতর্কটি আরও বিভ্রান্তিকর হয়ে উঠবে।

সুতরাং রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিবর্তে Petrobangla, BAPEX এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বছরভিত্তিক কূপ খনন, উৎপাদন, আবিষ্কার ও প্রকল্প বাস্তবায়নের তথ্য পাশাপাশি রেখে একটি পূর্ণাঙ্গ হিসাবই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উত্তর দিতে পারে।

শেষ কথা: সংকটের বিচার হওয়া উচিত পূর্ণ হিসাবের ভিত্তিতে

আওয়ামী লীগ সরকারের জ্বালানি খাতের সাফল্য ও ব্যর্থতা—দুটিই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

কূপ খনন হয়েছে—এটি যেমন তথ্য দিয়ে যাচাই করা যায়, তেমনি সেই কূপ থেকে কত গ্যাস পাওয়া গেছে, উৎপাদন কতদিন স্থায়ী হয়েছে, নতুন অনুসন্ধান কেন প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি, LNG-এর ওপর নির্ভরতা কেন বেড়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে—এসব প্রশ্নেরও উত্তর প্রয়োজন।

তাই “১৭ বছরে একটি কূপও খনন হয়নি”—এমন সর্বাত্মক রাজনৈতিক বক্তব্যকে যাচাই করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সরকারি হিসাব সামনে রাখা।

সেই হিসাব যদি ১৫৫টি কূপ খনন, ছয়টি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার, হাজার হাজার কিলোমিটার সিসমিক জরিপ এবং বিস্তৃত গ্যাস অবকাঠামো সম্প্রসারণের তথ্য নিশ্চিত করে, তাহলে বিতর্কটি আর কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তখন প্রশ্ন ওঠে—সমস্যাটি কি কূপ একেবারেই খনন না করার, নাকি প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত ও সময়োপযোগী অনুসন্ধান না করার?

এই পার্থক্যটিই বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মন্তব্য

Scroll to Top