শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ | Ashburn |
| Ashburn
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

চাঁদাবাজি ও হামলা করে পালানোর সময় যুবদল নেতা আটক

- ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৪ অপরাহ্ন

রাজধানীর বাংলামোটরে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো এক ওষুধ ব্যবসায়ীর বুকে পিস্তল ধরেছিলেন যুবদল নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমন। তিনি ঐ ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের বাঁট দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এরপর স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে পরপর তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালানো চেষ্টা করেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ ঘিরে ফেলে তাকে ও তার সহযোগীদের আটক করে পিটুনি দেয়। এরপর পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যায়।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরের নিউ ইস্কাটন এলাকায়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, নিউ ইস্কাটনের একটি বাসার সামনে মো. সোহানের পথরোধ করেন সাইমন ও তার সহযোগীরা। এ সময় সাইমন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

সোহান টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইমন আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাকে ভয় দেখান। একপর্যায়ে পিস্তলের বাঁট দিয়ে সোহানের মাথায় আঘাত করেন। অন্য অভিযুক্তরাও তাকে মারধর করেন।

একপর্যায়ে সাইমন ফাঁকা গুলি ছুড়লে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। এরপর সাইমন ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

হামলায় আহত সোহান কাছের একটি ফার্মেসিতে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাওয়ার প্রস্তুতির সময় তার ভগ্নিপতি মোক্তার হোসেন সেখানে উপস্থিত হন।

এর মধ্যেই সাইমন ও তার সহযোগীরা মোটরসাইকেলে করে আবার সেখানে আসেন এবং সোহানকে দ্বিতীয় দফায় মারধরের চেষ্টা করেন। মোক্তার বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, এ সময় সাইমন পিস্তল দিয়ে পরপর তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করেন।

পালানোর সময় সাইমনকে আটক করা হয়। পরে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।

সাইমনকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যুবদল ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যুব সংগঠন।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার আসামিদের সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত, পলাতকদের গ্রেপ্তার এবং মামলার বিভিন্ন বিষয় যাচাই করতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, সাইমন ও অন্য কয়েকজনের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল ও কলাবাগান থানায় মাদক আইনে বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর সাইমন ও তার তিন সহযোগীকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানায়।

মন্তব্য

Scroll to Top