নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অবস্থিত ঐতিহাসিক মিনিয়াডস কোয়ার্টার (সুইপার কলোনি) খালি করার নির্দেশকে কেন্দ্র করে হরিজন সম্প্রদায়সহ পরিচ্ছন্নতাকর্মী পরিবারের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জারি করা নোটিশ অনুযায়ী, আগামী ৩০ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে কোয়ার্টারসহ সংশ্লিষ্ট ভবনগুলো খালি করতে হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পরিচালক ডা. মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত (স্মারক নং: পরি/মিহায/২৬/১৭২৭৮, তারিখ: ৩০ জুলাই ২০২৬) নোটিশে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, নির্মাণ শাখা এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্দেশনার আলোকে ভবন অপসারণের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশ অনুযায়ী, গণপূর্ত অধিদপ্তর ইতোমধ্যে ভবন অপসারণের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে অপসারণকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ৩ মে ২০২৬ তারিখে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্দেশনার ভিত্তিতে এই কার্যক্রমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
এছাড়া, ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে মিনিয়াডস কোয়ার্টারসহ সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোর বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাসা খালি না করলে পরবর্তী পরিস্থিতির দায় বাসিন্দাদের নিজেদের বহন করতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মিটফোর্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বা দীর্ঘ সময় ধরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ এই এলাকায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বসবাস করে আসছেন। তাদের দাবি, প্রায় ১৬৮ বছরের এই বসতি শুধু আবাসন নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক ও সামাজিক পরিচয়ের অংশ।
হরিজন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জানান, পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা ছাড়া উচ্ছেদের উদ্যোগ শত শত পরিবারের জন্য মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে। তাদের দাবি, বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে বহু পরিবার চরম দুর্ভোগের মুখে পড়বে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন অবকাঠামো নির্মাণের স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও মানবাধিকারকর্মীরা উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, পুনর্বাসনের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন হরিজন সম্প্রদায়ের নেতারা। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের বাসিন্দাদের বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।


