ভাইসরয় বা বড়লাট শব্দটির সঙ্গে উপমহাদেশের ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শব্দটির অর্থ রাজপ্রতিনিধি। ভারতে একজন ভাইসরয় অবশ্যই ব্রিটেনের রাজা বা রাণীর প্রতিনিধি। ঔপনিবেশিক শাসনামলে এই প্রতিনিধিরা ব্রিটেনে তাদের প্রভুদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য যা যা করার প্রয়োজন মনে করত, করতেন। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর ভারতের (পড়ুন বাংলা) শাসনভার চলে যায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে। এটি ধীরে ধীরে হয়েছে। অথচ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই দেশে এসেছিল বাণিজ্যের নামে। ওটা ছিল তাদের একটা প্রতারণার মুখোশ। ১৭৫৭ সাল থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত এই কোম্পানি নানা প্রতারণা আর ধাপ্পাবাজির মাধ্যমে উপমহাদেশের সম্পদ লুটপাট করে ব্রিটেনের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে, লন্ডনসহ সেই দেশের শহর-বন্দর গড়েছে আর পরবর্তীকালে বিশ্বের হুকুমবরদার সেজেছে। এই সময়কালে তাদের সকল ধরনের অপকর্মকে সহায়তা করার জন্য সৃষ্টি হয় তাদের এই দেশীয় প্রতিনিধি। কারও নাম রাজা, কেউ বা নবাব। কোম্পানি দেশের জনগণের কাছ থেকে কর-খাজনা আদায় করত আর রাজা আর নবাবরা বাইজির নাচ আর সুরা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। ১৮৫৭ সালে এই বেনিয়া ইংরেজদের নানাবিধ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে ইংরেজদের ছাউনিতে থাকা ভারতীয় সৈনিকরা বিদ্রোহ করে। সেই বিদ্রোহে ইংরেজদের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরপর বিলেতে বসে থাকা রাণী ভিক্টোরিয়া সিদ্ধান্ত নিলেন, আর নয় কোম্পানি; এবার থেকেই তিনি নিজেই হাতে তুলে নেবেন ভারত শাসন ও শোষণের ভার। যেই কথা, সেই কাজ। ভারতের মসনদ থেকে সরলেন কোম্পানির প্রতিনিধি আর তাতে চড়ে বসলেন রাণীর বিশ্বস্ত একজন, নাম-পদবি তার ভাইসরয় বা গভর্নর জেনারেল। প্রথমজন লর্ড ক্যানিং। ভারতের রাজধানী সরল কলকাতা থেকে দিল্লিতে। এই ব্যবস্থা ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত চলল। শেষ বড়লাট লর্ড মাউন্টব্যাটেন। তিনি ভারত ছাড়ার আগে চালিয়ে দিলেন তাঁর হাতের দু-ফলা ছুরি বাংলা আর পাঞ্জাবের বুকে।
এই বড়লাটদের দুঃশাসন ও অপশাসনের ফলে বাংলায় দুটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়। প্রথমটি ১৮৭৬–১৮৭৮ সময়কালে। দ্বিতীয়টি ১৯৪৩–৪৪ সালে। প্রত্যেকটি দুর্ভিক্ষে বাংলায় ত্রিশ লক্ষ হতে পঞ্চাশ লক্ষ পর্যন্ত মানুষ প্রাণ হারায়। দ্বিতীয় দুর্ভিক্ষের জন্য সরাসরি দায়ী ছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল। এই বিষয়গুলো নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে, এখনো আলোচনা হচ্ছে খোদ ব্রিটেনে।
১৯৪৭ সাল থেকে ভারত উপমহাদেশের দেশগুলো তাদের নিজ সংবিধান বা রীতি অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করছে। এখন আর এখানে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের কোনো প্রতিনিধি বা ভাইসরয় নেই। এমন প্রতিনিধি তাদের অন্য সব দখলকৃত দেশগুলো হতেও প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে আধিপত্যবাদ কায়েম করার জন্য ব্রিটেন বা পশ্চিমা বিশ্বের অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা নানা ফন্দিফিকির ও ষড়যন্ত্র করে তাদের নিজ স্বার্থে দেশে দেশে সরকার পরিবর্তন করেছে, রাজনৈতিক ব্যক্তি, নির্বাচিত সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানকে ক্ষমতাচ্যুত করে নিজেদের লোক বসিয়েছে (পাকিস্তান, মিশর, চিলি, ইন্দোনেশিয়া), প্রয়োজনে এদের হত্যা করেছে (চিলি)। এই কাজগুলো করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৃথক বাজেট দিয়ে ব্যক্তি (ডোনাল্ড লু) বা সংস্থাকে মাঠে নামিয়েছে। তাদের কাঙ্ক্ষিত অপকর্মগুলো করার জন্য বিভিন্ন দেশে তাদের দূতাবাস আর রাষ্ট্রদূতদের দায়িত্ব দিয়ে কাজে লাগিয়েছে। যে কোনো দেশে অন্য দেশের একাধিক দূতাবাস থাকে। কিন্তু কোনো দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কর্মকর্তা বা রাষ্ট্রদূত যেভাবে সেই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন, তা অন্য কোনো দেশের রাষ্ট্রদূতরা করেন না বা করতে দেখা যায় না। তবে এটা নির্ভর করে সেই দেশের শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামো আর তার নেতৃত্বের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের রাজনীতিটা শুরু করেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। শুরুটা ইরানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ড. মোসাদ্দেগকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ড. মোসাদ্দেগের ‘অপরাধ’ ছিল, তিনি নির্বাচিত হয়ে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ইরানের সকল তেলক্ষেত্র জাতীয়করণ করে সেই দেশ থেকে সকল পশ্চিমা তেল-উত্তোলন কোম্পানিকে বহিষ্কার করেছিলেন। এমন একটি ‘গর্হিত’ কাজকে তো ছাড় দেওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার সিআইএর অন্যতম কর্মকর্তা কেরমিট রুজভেল্টকে পাঠালেন তেহরানের দূতাবাসে। সঙ্গে আরও কয়েকজন রেজিম চেঞ্জ বিশেষজ্ঞ। তেহরানে বসে আছেন মিত্র, খোদ ইরানের শাহ। সঙ্গে তাঁর আরও কিছু সভাপারিষদ, যাদের মধ্যে অন্যতম জেনারেল (অব.) ফাজিউল্লাহ জাহেদি, আসাদুল্লাহ রাশেদিয়ান আর তাঁর দুই ভাই। ড. মোসাদ্দেগকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য ওয়াশিংটন ও লন্ডন বরাদ্দ করল বিশাল অঙ্কের অর্থ। সেই অর্থ গেল মোসাদ্দেগবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির হাতে। সহায়ক ইরানের এক শ্রেণির সুশীল সমাজ আর শ্রমিক সংগঠন। শুরু হলো ইরানব্যাপী পরিকল্পিত জন-অসন্তোষ আর রাজনৈতিক অস্থিরতা। শ্রমিকদের দিয়ে বলানো হলো, বিদেশি তেল কোম্পানিগুলো চলে যাওয়াতে তারা কর্মহীন হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এই অসন্তোষে পরোক্ষ সমর্থন যোগাল। মার্কিন ডলারে ইরানের মোসাদ্দেগবিরোধী ব্যক্তি, দল আর গোষ্ঠীর পকেট তখন উপচে পড়ছে। ১৯৫৩ সালে নির্বাচিত ড. মোসাদ্দেগের সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলো। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ইরানের মসনদে বসলেন ফাজিউল্লাহ জাহেদি। সার্বিকভাবে সিআইএকে সহায়তা করল ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-সিক্স।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পুরো ঘটনার সঙ্গে কেমন অদ্ভুত মিল। একদম কপি-পেস্ট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র এমনসব কর্মকাণ্ড বিশ্বের দেশে দেশে করেছে, যার সংখ্যা আনুমানিক সত্তর। অনেকে মনে করেন, হয়তো শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর এবার বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক পরিবার একটু শান্ত হবে। না, তা হয়নি। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টিনসেন তাঁর পূর্বসূরি পিটার হাসের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় আর দুর্ধর্ষ। পিটার হাসের কর্মকাণ্ড অনেকটা ঢাকায় সীমাবদ্ধ ছিল। তিনি আওয়ামী লীগবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী আর তাদের বেতনভুক্ত এদেশীয় সুশীলদের সঙ্গে তাঁর দপ্তরে ডেকে আলোচনা বা পরামর্শ করতেন, কীভাবে শেখ হাসিনাকে ফেলে দেওয়া যায়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় আসর বসত বারিধারার আমেরিকান ক্লাবে। এই সব সভা যে খুব গোপনে হতো, তা কিন্তু নয়। এক সন্ধ্যায় এক জামায়াত নেতা এমন এক আসর থেকে বের হচ্ছেন, তেমন একটি খবর ও ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। পিটার হাস গেলেন ‘মায়ের ডাক’ নামক এক সংগঠনের আহ্বায়কের বাড়িতে। এই সংগঠনটি বিভিন্ন সময় নিরুদ্দেশ ব্যক্তিদের পরিবার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। বের হওয়ার সময় তিনি কিছুটা হেনস্তা হলেন স্থানীয় জনগণের দ্বারা। ছুটলেন তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। দেখা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনের কাছে নালিশ করলেন। স্বাভাবিকভাবেই মন্ত্রী তাঁকে মনে করিয়ে দিলেন, একজন কূটনীতিক যখন চলাফেরা করেন, বিশেষ করে তা যদি ব্যক্তিগত হয়, তাহলে তা পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আগাম জানানো একটি প্রচলিত রেওয়াজ। কারণ তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের। তা পিটার হাস করেননি। তাঁর একজন পূর্বসূরি মার্সিয়া বার্নিকাট এক রাতে কাউকে কিছু না জানিয়ে ছুটলেন তাঁদের বেতনভুক্ত আর এক সুশীলের বাড়িতে। সেখানে খানাপিনার ব্যবস্থা হয়েছে। সেখানে গিয়ে তিনিও স্থানীয় জনগণের দ্বারা অপদস্থ হলেন। ২০২৩ সালে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেটি যেতে চাইলেন সেই দেশের পূর্বাঞ্চলীয় অস্থির রাজ্য মিজোরামে। বললেন, তিনি সব শান্ত করে দেবেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় তাঁকে সাবধান করে দিয়ে জানিয়ে দিল, তিনি যেন এমন কাজ করার চিন্তাই না করেন। মনে করিয়ে দিল কূটনৈতিক ব্যক্তিদের আচার-আচরণ ভিয়েনা কনভেনশন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাষ্ট্রদূতের বেপরোয়া আচার-আচরণ, চলাফেরা তাঁর সব পূর্বসূরিকে হার মানিয়েছে। তিনি আম খাওয়ার নাম করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবাধে যাতায়াত করছেন।
বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে ভারতের পুশব্যাক আর পুশ-ইন নিয়ে কথা বলছেন, যা তাঁর এখতিয়ারের বাইরে। রাজশাহীর এক হোটেলে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, মার্কিন পতাকা মোড়া রিকশা চালাচ্ছেন। বন্ধের দিনে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দরজা খুলিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ডেকে এনে জানিয়ে দিচ্ছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে কখনো ভুল হয় না।’ যদিও তিনি এই কথা বিশ্বকাপ ফুটবলকে টেনে এনে বলেছেন, সাধারণ মানুষের বুঝতে অসুবিধা হয় না, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের প্রাক্কালে তিনি কী প্রেক্ষাপটে তা বলেছেন। বাংলাদেশে আসার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটিকে বলে এসেছেন, বাংলাদেশে তাঁর অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে এই অঞ্চলে চীনের ‘আধিপত্য’ বিস্তারের বিরুদ্ধে কাজ করা। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সব সময় ফেউয়ের মতো লেগে থাকেন ইইউ আর যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারদ্বয়। মার্কিন দূত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্ষ থেকে বের হওয়ার পরপর সেখানে ঢুকলেন যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারা কুক আর ইইউর প্রতিনিধি। তবে তারা কোন দলের ওপর বাজি ধরতে বলেছেন, তা জানা যায়নি।
বাংলাদেশে গত কয়েকদিন ধরে ঢাকাসহ কোনো কোনো শহরে জঙ্গি সংগঠন ‘আইসিস’-এর সাদা-কালো পতাকা দেখা যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, এটি কালেমা-সম্বলিত পবিত্র পতাকা। তবে এমন পতাকা ‘আইসিস’ ব্যবহার করার আগে অন্য কেউ ব্যবহার করেনি, তা সকলে জানে। এত সব পতাকা কোথায় তৈরি হচ্ছে, তা জানা যায়নি। কোনো কোনো মসজিদে শুক্রবারের খুতবায় খতিব বিশ্বকাপকে হারাম ঘোষণা দিয়ে বাড়ির ওপর আইসিসের পতাকা উত্তোলন করতে বলছেন। সর্বশেষ গত বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় এই পতাকা নিয়ে কয়েকশ লোক মিছিল করল। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরীর ব্যানার নিয়ে সমাবেশ করেছে। ইউনূস জামানায় জঙ্গিবাদী সংগঠনগুলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করে। এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন হামাসের শীর্ষ পর্যায়ের দু-একজন নেতা। হামাস ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার একটি স্বাধীনতাকামী দল। তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। তবে পদ্ধতি নিয়ে তারা পশ্চিম বিশ্বে সমালোচিত। তাদের দৃষ্টিতে হামাস একটি ‘জঙ্গিবাদী’ সংগঠন। বাংলাদেশে আসা হামাস নেতারা ওয়াজ-নসিহত করতে ছুটে গেলেন সীমান্তবর্তী এলাকায়। এই সবের প্রেক্ষাপটে ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ঘোষণা করলেন, তারা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের বিচরণ দেখছেন। তাঁর এই বক্তব্য শঙ্কার কারণ বলে অনেকে মনে করছেন। লেবাননে হামাসের উপস্থিতি আছে, সে অজুহাতে ইসরায়েল সেখানে নিয়মিত হামলা করে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের ভাইসরয়সুলভ আচরণ, তাঁর বেপরোয়া চলাফেরা, বিভিন্ন শহরে আইসিসের পতাকা নিয়ে মিছিল, ভারতে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতের বাংলাদেশে হামাসের উপস্থিতি আবিষ্কার, হঠাৎ যুক্তরাষ্ট্রের বেতনভুক্ত কিছু সুশীল সমাজ বের হয়ে এসে ঘোষণা করা—এদেশে সাংবিধানিক সংকট আসন্ন, প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে হঠাৎ করে দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম মালয়েশিয়া ও চীন সফর অনেকটা শ্রেফ আসা-যাওয়ার সফরে পরিণত হওয়া—কোনো কিছুই স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। জানা গেল, তারেক রহমান চীন সফর করে ফেরার আগে ইউরোপের কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতরা দিল্লি দরবারে হাজিরা দিতে গিয়েছেন। দেখা যাক পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়।
লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
২৬ জুন, ২০২৬।

